
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাট থানার আলোচিত শিক্ষার্থী রিপন মন্ডল হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ঘাতক জামাল পত্তনদার (৪৫) কে নড়াইল থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
র্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের চৌকস আভিযানিক দল গত রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫টার সময় গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং র্যাব-৬ এর সহযোগিতায় নড়াইল জেলার সদর থানার কালিয়া রোড ভবানীপুর এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
সোমবার দুপুরে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১০ অধিনায়কের পক্ষে সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা, এডি বলেন, অভিযানে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাটে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রিপন মন্ডল হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গোয়ালন্দঘাট থানার উত্তর দৌলতদিয়া গ্রামের হোসেন পত্তনদারের ছেলে ঘাতক জামাল পত্তনদারকে গোয়েন্দা তথ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২০১৪ সালের ০৬ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দঘাট থানার দৌলতদিয়া এলাকায় আসামি জামাল পত্তনদার গুলি করে শিক্ষার্থী রিপন মন্ডলকে হত্যা করে। এ হত্যার ঘটনায় রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। বিচারকার্য পরিচালনা শেষে গত ২০২৩ সালের ০৬ আগস্ট রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলায় ঘাতক জামাল পত্তনদারকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রায় প্রদানের সময় থেকেই মৃত্যুদণ্ড এড়াতে ঘাতক জামাল পত্তনদার দীর্ঘদিন ভারতে পলাতক ছিল।
তিনি আরও বলেন, সাজা এড়াতে ভারতে পালিয়ে যাওয়া আসামি জামাল পত্তনদারকে গত ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট ভারতের মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের সিআইইউ দক্ষিণ মুম্বাইয়ের কামাঠিপুরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। কয়েক মাস ভারতের কারাগারে থাকার পর সে জামিনে মুক্তি পেয়ে দুই মাস পূর্বে কৌশলে পুশব্যাকের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলাদেশে প্রবেশের পর র্যাব ঘাতক জামাল পত্তনদার-এর ওপর বিশেষ নজরদারি শুরু করে। পরে স্থানীয় ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, সে পুনরায় কন্ট্রাক্ট কিলিং মিশনে অংশগ্রহণ করে হত্যাকাণ্ড শেষে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে গোপন নজরদারি জোরদার করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং তাকে নড়াইল জেলার সদর থানার কালিয়া রোড ভবানীপুর এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার নিকট হতে নগদ টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাতক জামাল পত্তনদার এ হত্যা মামলা ছাড়াও ২টি অস্ত্র, ২টি মাদক, ১টি ডাকাতির প্রস্তুতি এবং ১টি চাঁদাবাজি মামলার এজাহারনামীয় আসামি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রিপনকে মাথায় ও বুকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যান দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বন্ধু ফরিদ শেখও গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় রিপনের মামা খলিল মণ্ডল বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দঘাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ মোছা. জাকিয়া পারভীন গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সাইফুল ইসলাম রিপন হত্যা মামলায় জামাল পত্তনদারকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছিলেন। এছাড়া এ মামলায় ১২ আসামিকে খালাস দিয়েছিল আদালত। রায়ের ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামাল পত্তনদার অনুপস্থিত ছিল।