১৪ বছর আগে নিখোঁজ মো. নুরুজ্জামান নামক এক ব্যক্তির লাশের খোঁজে মাটি খুঁড়াখুঁড়ি করেছে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ। ঈশ্বরগঞ্জের রাজিবপুর ইউনিয়নের উমনাথপুর গ্রামে নিখোঁজের বড় ভাই আনিসুর রহমানের শ্যালক শরিফুল ইসলামের বাড়িতে এই খুঁড়াখুঁড়ি করা হয়। প্রথম ধাপে ৩০ জুন রবিবার বিকাল থেকে রাত প্রায় ১০টা অবধি মাটি খুঁড়াখুঁড়ি করে ব্যর্থ হয়ে পরদিন সোমবার দুপুরে এক্সকেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে পুনরায় খুঁড়াখুঁড়ির কাজ শুরু হয়। তবে প্রায় পাঁচ ঘন্টা খুঁড়াখুঁড়ি করেও লাশের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ ব্যক্তির বড় ভাই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আনিসুর রহমান জানান, তার নিখোঁজ ভাই ২০১০ সালের ৮ জানুয়ারি তার(আনিস) শ্যালক শরিফুল ইসলামের সাথে মোবাইলে কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে উচাখিলা বাজারে যান। তারপর তার ভাই আর বাড়িতে ফেরত যাননি। নিখোঁজের ঘটনায় তখন থানায় একটি জিডি করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। নিখোঁজ হওয়ার সময় নিখোঁজ নুরুজ্জামানের বয়স ছিল ২৬ বছর।
সম্প্রতি তার (আনিস) শ্যালক শরিফুল ইসলাম কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিখোঁজ নুরুজ্জামানকে হত্যা করে তার বাড়ির সামনের পুকুর পাড়ের মাটিতে গর্ত করে লাশ পুতে রেখেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মাটি খোঁড়ে লাশ উদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাটি খোঁড়া দেখতে আশেপাশের কয়েক গ্রাম থেকে বহু লোক এসে ঘটনাস্থলে ভীড় জমায়। উৎসুক জনতার চোখেমুখে পরিলক্ষিত হয় চাপা আতঙ্কের ছাপ।
এ প্রসঙ্গে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাজেদুর রহমান জানান, নিখোঁজের ঘটনায় ২০১০ সালে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় এন্ট্রি করা একটি জিডির প্রেক্ষিতে মাটি খোঁড়ে নিখোঁজ ব্যক্তির লাশের সন্ধান করা হচ্ছে। তবে দুইদিন যাবত মাটি খোঁড়ার পরও নিখোঁজ সেই ব্যক্তির মরদেহের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।