মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাভারে বিশেষ অভিযানে ধরা পড়ছে খুচরা কারবারি, অধরা গডফাদাররা, পর্ব-১ ১১ বছরেও দমানো যায়নি হুতিদের, এখন কী করবে সৌদি আরব? কটাক্ষ শুনেছিলেন রাধিকা না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন অভিনেত্রী নাসিমা খান গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে কানাডার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির গ্রেফতার সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে যা বললেন রিজভী কাজীপুরে যমুনার চরাঞ্চলে ঘাস বিক্রি  করে সংসার চালায় হাজারো পরিবার  শিক্ষার মানোন্নয়নে বিএনপি সরকার বদ্ধপরিকর’— ভিপি বাবলু ইউপি নির্বাচন শুরু ২১ জানুয়ারি, পাঁচ ধাপে শেষ

কাজীপুরে যমুনার চরাঞ্চলে ঘাস বিক্রি  করে সংসার চালায় হাজারো পরিবার 

টি এম কামাল :
  • আপডেট সময় : 3:48 pm, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
যমুনা নদীর পানি কমে যাওয়ায় জেগে ওঠেছে অসংখ্য চর। বিস্তীর্ণ এই বালুময় চরাঞ্চলে দু’ চোখ যে দিকে যায় শুধু সবুজ ঘাস ও কাইশার সমারোহ। চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ। চরাঞ্চলের ঘাস ও কাইশা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ, সংসার চালিয়ে আসছেন সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার হাজারো দরিদ্র পরিবারের লোকজন। মাইজবাড়ী, খাসরাজবাড়ী, শুভগাছা, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, মনসুর নগর ও চরগিরিশ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্ৰাম ঘুরে ঘাস ও কাইশা বেচাকেনার এমন চিত্র দেখা গেছে।
যমুনা চরাঞ্চলের এলাকাগুলোতে বরাবরই গো-খাদ্যের সংকট থাকে। যমুনা প্রমত্ত্ব হলে এ সংকট আরও তীব্রতর হয়। অসময়ে পানি বেড়ে নিচু এলাকার জমি ও বাড়ির আঙিনা তলিয়ে যাওয়ায় ওইসব এলাকায় গো-খাদ্যের ব্যাপক চাহিদা দেখা দেয়। গো-খাদ্য সংকটের কারণেই মূলত ঘাস ও কাইশা বেচা-কেনা পেশা হিসেবে বেছে অনেকে।
সরেজমিনে মেঘাই, ঢেকুরিয়া, কুমারিয়াবাড়ী, জর্জিরা, পানাগাড়ী, রঘুনাথপুর, গুলমোড় ও শুভগাছায় এলাকায় বর্তমানে সকাল-বিকাল বিভিন্ন জাতের ঘাসের হাট বসে। বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা ওইসব এলাকায় আসেন ঘাস ও কাইশা কিনতে। গরু-ছাগলের খাদ্য হিসেবে পরিচিত ঘাসের মধ্যে নেপিয়ার, দুর্বাঘাস, গর্বাঘাস, কাঠাঁলপাতাসহ আরও অনেক রকমের ঘাস বিক্রি হয়। যমুনার তীর ঘেঁষা ওই বাজারগুলো এক সময় টাটকা মাছের বাজার হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে তা ‘ঘাসের বাজার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এসব বাজারে প্রতি আঁটি ঘাস বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। এক আঁটি কাঠাঁল পাতা ২০-৩০ টাকা, দুর্বাঘাস প্রতি আঁটি ৭০-৮০ টাকা, গর্বাঘাস ৮০-১২০ টাকা, নেপিয়ার ঘাস প্রকার ভেদে ৩০-৮০ টাকা আটি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা দাম কষাকষি করে চাহিদা মতো ঘাস কিনছেন।
যমুনা নদীর পাশে ঢেকুরিয়া হাট- বাজারে ঘাস ও কাইশা বিক্রি করতে আসা নতুন মাইজবাড়ী চরর আজিবার হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে ঘাস বিক্রি করেই আমাদের সংসার চলে। শরৎকাল মৌসুমে চরাঞ্চলে সাধারণত কাজ থাকে না। তাই এ মৌসুমে ঘাস বিক্রি করে দিনে ৪০০-৫০০ টাকা রোজগার হয়। তা দিয়ে কোন রকম সংসার চলে। মেঘাই বাজারের ঘাস বিক্রেতা আনিছুর রহমান বলেন, আমরা গরিব মানুষ। কাজ না থাকায় ঘাস আর মাছ বিক্রির টাকায় আমাদের সংসার চলে। চলে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখাও। সকালে বাজারে এসে ঘাস বিক্রি করতে পারলে প্রতিদিন নৌকা খরচ বাদে গড়ে ৪০০-৫০০ টাকা উপার্জন করি। ঘাস ক্রেতা আমিনুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন, তাদের ৪-৭টি করে গবাদী পশু রয়েছে। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে গো-খাদ্যের সংকট বেশি থাকে। তাই বর্ষা সময়ে চরাঞ্চলের ঘাসই তাদের মূল ভরসা। তারা এ বাজার থেকে নিয়মিত ঘাস কেনেন। আনোয়ারুল ইসলাম জানান, যমুনা চরাঞ্চলের মানুষের জীবনধারণ আসলে খুব কষ্টের। নদী তীরবর্তী এলাকার গো-খাদ্যের যোগান দিতে মূলত ঘাসের বাজারগুলো গড়ে ওঠেছে। এসব বাজারকে কেন্দ্র করে চরাঞ্চলের অনেক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে।
কাজীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ দিদারুল আহসান বলেন, চরাঞ্চলের অনেক পরিবার চর থেকে বিভিন্ন জাতের কাঁচা ঘাস ও কাইশা সংগ্ৰহ করে স্থানীয় হাট-বাজার বিক্রি করে। এতে করে তাদের সংসার চলে ও তাদের গবাদি পশুর চাহিদাও পূরণ হয়। এছাড়াও বাণিজ্যিকভাবে প্রায় শতাধিক খামারি ঘাঘ চাষ করে নিজেদের চাহিদা পূরণ করেও বিক্রি করে আসছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com