বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
১৭ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করেছে বিএনপি সরকার: এলজিআরডিমন্ত্রী ‘বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ দাবি বাস্তবায়িত হতে পারে’ সিরাজগঞ্জে কৃষকের মুখে হাসি আগাম শীতকালীন সবজি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন তালাবদ্ধ ‘একদিন সবাইকে চলে যেতে হবে’, মৃত্যুর চার দিন আগে বলেছিলেন নানা পাটেকার ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে পর্তুগালের উন্নতি, বাংলাদেশ-ব্রাজিলের অবনতি আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির যত অর্জন চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে নতুন কমিটি, মাফিয়াবৃত্তির অবসান ঘটবে : রিজভী শক্তিমান অভিনেতা নানা পাটেকার মারা গেছেন ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ পানির ন্যায্য হিস্যা চায় : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন তালাবদ্ধ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : 1:16 pm, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা প্রতিনিধিঃ
সরকারি হাসপাতালে তালা বদ্ধ কোটি টাকা মূল্যের এক্স-রে মেশিন ধুলোবালিতে জং ধরে দীর্ঘদিন অকেজো পড়ে রয়েছে। আর এদিকে ভাঙা হাড় কিংবা তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে আসা অসহায় দরিদ্র মানুষ দরজায় ঝোলানো তালার দিকে চেয়ে নিরূপায় হয়ে বাড়ি ফিরছেন। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার দোরগোড়ায় এসেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের। এ চিত্র খুলনার পাইকগাছা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা।
দীর্ঘদিন ধরে চালু না হওয়ায় চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে জনমনে। উল্লেখ্য, তৎকালীন থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি শুভ উদ্বোধন করা হয়েছিল ১৯৯৭ সালের ২২শে অক্টোবর। দীর্ঘ প্রায় ২৯ বছর অতিক্রান্ত হলেও এই উপকূলীয় প্রান্তিক জনপদের মানুষের সরকারি খরচে উন্নত এক্স-রে সেবা পাওয়ার আকুল আকাঙ্ক্ষা আজও অধরাই রয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকার কয়েক লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসাস্থল এই সরকারি হাসপাতালটি।
একাধিকবার সরকারি বরাদ্দে এক্স-রে মেশিন এখানে আনা হলেও তা কোনোদিন আলোর মুখ দেখেনি। প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও জনবল সংকটের অজুহাতে বছরের পর বছর এক্স-রে কক্ষটি তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থেকে মূল্যবান স্বাস্থ্য পরীক্ষার যন্ত্রপাতিগুলোতে আজ মরিচা ধরে স্তূপাকারে নষ্ট হচ্ছে।
সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে বাধ্য হয়েই রোগীদের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে হাসপাতালের আশেপাশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর। যেখানে সরকারিভাবে নামমাত্র খরচে এই সেবা পাওয়ার কথা, সেখানে বাইরের বেসরকারি ক্লিনিকে একটি সাধারণ রিপোর্টের জন্য গুনতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা বা তারও বেশি।
এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন দিনমজুর, প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ, যাদের পক্ষে এই বিপুল অর্থ বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের একাংশের সঙ্গে বাইরের ক্লিনিকগুলোর অশুভ ‘কমিশন বাণিজ্য’-এর কারণেই সরকারি এই সেবা চালু করতে অতীতে কারও কোনো সদিচ্ছা ছিল না।
সচেতন মহলের মতে, স্থায়ী জনবল ও আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন স্থাপন ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান অসম্ভব। তবে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলে সাময়িকভাবে আউটসোর্সিং বা বিকল্প উপায়ে লোক নিয়োগ দিয়ে হলেও জনস্বার্থে এই সার্ভিসটি চালু রাখা সম্ভব।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা আহমেদ বলেন, “বর্তমানে আমাদের আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, টেকনিশিয়ান ও উপযুক্ত কক্ষের ঘাটতি রয়েছে। পুরোনো মেশিনটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে।
আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন আধুনিক মেশিন ও জনবলের চাহিদা জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছি। সেবাটি দ্রুত চালুর জোরালো প্রচেষ্টা চলছে।” সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো কি তবে শুধু নামেই দাঁড়িয়ে থাকবে? উপকূলীয় এই প্রান্তিক জনপদের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং দালালি ও কমিশন বাণিজ্য বন্ধে অনতিবিলম্বে এক্স-রে বিভাগটি চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা এই বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com