
চলতি মাসের শেষে বা আগামী মাসের শুরুতে ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ সংক্রমণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। তিনি সবাইকে ডেঙ্গু নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে তিন মাস ক্যাম্পেইন চালু করতে যাচ্ছে সরকার।
আজ বুধবার সকাল সোয়া ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু নিয়ে তিন মাসের ক্যাম্পেইন চালু করতে যাচ্ছে সরকার।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুহার কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গুর চিকিৎসায় ৩০০ চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বর্তমান রোগীর হার অনুযায়ী পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুদ রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বলেন, ‘ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকারের দুটি লক্ষ্য—আক্রান্তের সংখ্যা কমানো এবং মৃত্যুর হার কমানো।
’
সরকারের একগুচ্ছ পদক্ষেপ
ডেঙ্গু সংক্রমণের হার কমাতে তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক বিশেষ কর্মসূচিসহ একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দেশের সব জেলার সিভিল সার্জনদের নিয়ে বৈঠক করে নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১২ সেপ্টেম্বর এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান বা বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করার জন্য সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করেছে।
উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। বেশি রোগীর চাপ সামাল দেওয়ার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ‘ফিল্ড হসপিটাল’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ডেঙ্গুরোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে সারা দেশে প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনা মূল্যে করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ শতাংশ শয্যায় বিনা মূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এবং রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোকে ডেঙ্গু ও ডেঙ্গু রোগসংক্রান্ত পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহায়তায় ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার সমন্বিত গাইডলাইন হালনাগাদ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এই বিশেষ কর্মসূচিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গুর কারণে প্রতিদিন মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সব সিভিল সার্জনকে হাসপাতালের প্রস্তুতি জোরদার রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য এবং পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের রোগীদের জন্যও মশারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্যালাইন, ওষুধ এবং ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটের কোনো ঘাটতি দেখা দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
১৩০ মৃত্যু, আক্রান্ত ৪৫ হাজার
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই মারা গেছে ৪৩ জন। ডেঙ্গু নিয়ে ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চলতি বছরে গতকাল মঙ্গলবারই এক দিনে সর্বোচ্চ ৯ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়।
মাসভিত্তিক সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল গত আগস্ট মাসে। এই মাসেই মারা গেছে ৪৩ জন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৩৩ জন।