বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপির সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদককে অব্যাহতি সুন্দরগঞ্জে ইয়াবাসহ এনসিপি নেতা গ্ৰেপ্তার হাকিমপুর হিলিতে দুই মেয়েকে ফেলে মা উধাও সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে হকারদের কষ্টের কথা ঘোড়াঘাটে ভ্রাম্যমাণ থেরাপি চিকিৎসা সেবা ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন এক ওয়ার্ডে ভোটার অন্য ওয়ার্ডে মেম্বার,ভোগ করছে সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা কাজিপুরে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্কুলের নতুন ভবন যমুনার ভাঙনের মুখে যমুনার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৮০ সেন্টিমিটার সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত কৃষক কার্ড বাস্তবায়নে সুন্দরগঞ্জে কৃষকের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু রাজারহাটে পর্দা উঠল শহীদ রাজীব স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে হকারদের কষ্টের কথা

টি এম কামাল
  • আপডেট সময় : 11:12 am, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
 সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ‘পেপারওয়ালার’ খবর রাখে না কেউ। সংবাদপত্রেও আসে না হকারদের কষ্টের কথা। ‘গরম খবর, গরম খবর’ ‘আজকের তাজা খবর’, সব খবর জানতে পত্রিকা পড়ুন’… এমনিভাবে ডাকতে থাকে পত্রিকার হকাররা। সেই কাকডাকা ভোরে শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে অলিগলি, বাসা বাড়ির সামনে কিংবা গ্রামের মেঠোপথেও হকাররা জীবনের চাকা ঘুরাতে পত্রিকা বিক্রি করেন।
পাঠক তার পছন্দের পত্রিকাটি অন্তত পাঁচ থেকে দশ-বারো টাকার বিনিময়ে সারা পৃথিবীর খরব পেয়ে যায় নিমিষেই হাতের নাগালে। খবরের কাগজের কারিগররা রাত ১২টার পর অপেক্ষায় থাকেন পাঠক মহলে পত্রিকাটি পৌঁছবে বলে। আর এই পৌঁছানের কাজটি যিনি করেন তাকে পাঠক মহল এক নামে চেনেন- তার নাম হলো, ‘হকার’। যাকে পত্রিকার হকার বলে চেনেন এমনকি তাকে অনেক সময় ডাকা হয়,‘এই পেপার’, ‘ওই পত্রিকা’ ইত্যাদি ইত্যাদি নামে। একটা পত্রিকার দাম যদি পাঁচ টাকা হয় তবে হকার পাঁচ টাকা বিক্রি করে পত্রিকার এজেন্ট এবং এজেন্ট পত্রিকার মালিককে দিয়ে কত টাকা হকার পায়? যা পায় তা দিয়েই চলে তার জীবিকা, সংসার। কী দিনরাত কী বৃষ্টি-রৌদ্র বা গরম কী শীত- আবহাওয়া যেমনই থাক হকার তার আরামের ঘুম হারাম করে মোরগ ডাকার আগেই নেমে পড়েন সমিতি কিংবা এজেন্টের কাছ থেকে পত্রিকা সংগ্রহ করার জন্য। এরপর ছুটে চলেন পাঠকের দুয়ারে দুয়ারে। সারা দিনের পরিশ্রমের ফল আসে একজন হকারের জন্য সর্বসাকুল্যে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। যেদিন ভালো চলে সেদিন ৪০০টাকা।
 সামান্য এই আয়ে নির্ভর গোটা জীবন। তাছাড়া পরিবার-পরিজন ও সন্তান লালন-পালন করে তাদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নানাবিধ ব্যয়ে টিকে থাকা মুশকিল। হকাররা জনবহুল ব্যস্ত এই এলাকায় খবরের কাগজ বিক্রির উলেখযোগ্য বাজার হিসেবে বেছে নেন রাস্তার চলমান গাড়িগুলোকে। সে জন্য দিতে হয় দৌড়ঝাঁপ। সে ক্ষেত্রে দূর্ঘটনায় পড়া স্বাভাবিক। পাঠকের কাছে নিজের জীবন বাজি রেখে খবরের কাগজ পৌঁছায় ঠিকই কিন্তু দূর্ঘটনায় তাদের পাশে কেউ থাকার নাই।
প্রাকৃতিক রোগব্যাধি তো থাকেই। এই এলাকার হিসাব অনুযায়ী একজন হকারের মাসিক আয় সর্বসাকুল্যে ৯ -১০ হাজার টাকা। ব্যস্ততম এই এলাকায় পারিপার্শ্বের সাপেক্ষে ৯ -১০ হাজার টাকায় টিকে থাকার কথা না থাকলেও নিজের সমস্যা ঢেকে পাঠকদের পত্রিকা ঠিকই পৌঁছে দেয় হকার। তাদের সম্বন্ধে ভাবার জন্য নাই পাঠকের সময় না পত্রিকার হকার সমিতির সময় না পত্রিকার মালিক পক্ষের।  পত্রিকার হকাররা তাদের জীবন মান উন্নয়নে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছেন। সবার মত তাদেরও একটি তালিকা করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, কাজিপুর উপজেলায় ৩৫-৪০ বছর ধরে হাসান আলী, জহুরুল ইসলাম, নার্গিস খাতুন সহ ৪-৫ পত্রিকার হকার বিক্রি করে আসছেন। #

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com