বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাভারে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযান: চোর ও ডাকাত দলের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার উখিয়ায় এখনো জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান “হয় অর্থ, নয় রক্ত” উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি ক্যারিয়ারের এমন স্বীকৃতি কেইনকেই মানায় মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত লড়াইয়ে পরিণত করার কৌশল হতে পারে বুমেরাং কোচদের সেরা দে লা ফুয়েন্তে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ মোকাবিলায় ভারতে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠকে জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী

প্রশ্ন ফাঁস: ধারদেনা করে চলা দুই ভাইয়ের হঠাৎ ‘টাকার গরম’

সিএনআই নিউজ টুয়েন্টিফোর
  • আপডেট সময় : 1:20 pm, বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০২৪

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সায়েদ আলীর ছেলে সাখাওয়াত হোসেন ও সায়েম হোসেন। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্রের গ্রেপ্তারকৃত ১৭ জনের মধ্যে এই দুই সহোদরও রয়েছেন।
ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ইচাইল মধ্যপাড়া গ্রামে তাঁদের বাড়ি। নিজ গ্রামে দুই ভাইই ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁদের নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠছে গ্রামে।
গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, প্রাথমিকের গণ্ডি পার হতে পারেননি সাখাওয়াত। মাদরাসায় কয়েক মাস পড়েছেন। প্রায় ১২ বছর আগে গ্রামের বাড়িতে ওয়াটার ফিল্টারের ব্যবসা শুরু করেন তিনি।
বছর দেড়েক ব্যবসা করেও সুবিধা করতে পারেননি। সংসারে অভাব-অনটন দেখা দেয়। এরপর স্কুলপড়ুয়া ছোট ভাই সায়েমকে নিয়ে ঢাকা চলে যান সাখাওয়াত। সেখানে স্যানিটারি কাজ ও ওয়াটার ফিল্টারের ব্যবসা শুরু করেন।
মাঝে মাঝে বাড়িতে আসতেন গণপরিবহনে। সাধারণ মানুষের মতোই চলাফেরা করতেন গ্রামে। কিন্তু তিন বছর যাবৎ হঠাৎ ঠাটবাট বেড়ে যায় দুই ভাইয়ের। প্রাইভেট কার নিয়ে বাড়ি আসতেন, চলাফেরায় ‘টাকার গরম’ দেখাতেন।
গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধিরা এই দুই ভাই সম্পর্কে জানতে ইচাইল গ্রামে যান।
গ্রামের নতুন বাজারের ৫০০ মিটার দক্ষিণে সাখাওয়াত ও সায়েমদের বাড়ি। বাড়িতে পুরনো আধাপাকা জরাজীর্ণ ঘরটি খালি, কেউ সেখানে থাকে না।
স্থানীয়রা জানায়, চার ভাই-বোনের মধ্যে সাখাওয়াত সবার বড় এবং সায়েম সবার ছোট। তাঁদের বাবা সায়েদ আলী প্রায় সাত বছর ধরে ময়মনসিংহ শহরে থেকে একটি ওয়ার্কশপে কাজ করেন। বছরে দুই ঈদে পরিবার নিয়ে বাড়িতে আসেন। সর্বশেষ গত ঈদুল ফিতরের সময় ঢাকা থেকে দুই ভাই দামি একটি প্রাইভেট কার নিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন।
ইচাইল গ্রামের জাকির হোসেন সাইম বলেন, ‘গ্রামে বাস করার সময় সাখাওয়াত আমিসহ অনেকের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ধারদেনা করে চলত। এখন ঢাকায় স্যানিটারি ও ওয়াটার ফিল্টারের কাজ করে বলে শুনেছি। তিন বছর যাবৎ সাখাওয়াতের চলাফেরা বদলে যায়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বাড়িতে আসত। এখন পত্রিকায় ছবি দেখলাম তারা দুই ভাই বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে।’
এক প্রতিবেশী বলেন, ‘সাখাওয়াত বাড়িতে কিছু না করলেও শুনেছি ময়মনসিংহ শহরে জমিজমা ও নতুন প্রাইভেট কার কিনেছেন। দুই-তিন বছরে তাঁদের চলাফেরায় পরিবর্তন দেখে অনেকের সন্দেহ হতো।’
সাখাওয়াতের চাচা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘সাখাওয়াত প্রায় ১০ বছর আগে ভাই-বোনদের নিয়ে ঢাকায় চলে যায়। রাজারবাগ এলাকায় স্যানিটারি ও ওয়াটার ফিল্টারের ব্যবসা করে। বাড়িতে জমিজমা নেই, অন্য কোথাও আছে কি না বলতে পারব না। প্রায় এক বছর আগে নতুন প্রাইভেট কার কিনেছে। শুনেছি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তাদের দুই ভাইকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com