
যশোরের চৌগাছায় এক স্কুল ছাত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন পৌর ছাত্রদলের সাত নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি মাহবুব হাসান উজ্জ্বল ও পৌর ছাত্রলীগের নেতা পারভেজ সানি। ধর্ষণের ঘটনায় আটক তিনজনের মধ্যে সানি ও শিমুলকে সোমবার বিকেলে যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রণব কুমার হুই এর আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় শিমুল নামে আরেক ছাত্রলীগ কর্মী আটক রয়েছেন।
রোববার রাতে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর বাবা বাদী আটক তিন জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরেকজনকে আসামি করা হয়েছে।
আটকের গণপিটুনিতে ওই তিন আসামি আহত হওয়ায় সোমবার সকালে তাদের যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানিয়েছেন চৌগাছা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই শরীফ হোসেন।
যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মীর মো. শাফিন মাহমুদ জানান,সোমবার ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এতে ধর্ষণের আলামত মিলেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ৪৮ ঘণ্টা পর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।
এদিকে ধর্ষকদের বিচার দাবিতে চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা শহরে মানববন্ধন করেছে। তবে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম রিয়াদের দাবি, সানি ও শিমুলকে ছাত্রলীগের কেউ নন। এ ঘটনার কঠিন শাস্তিও দাবি করেছেন তিনি।
আর জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জহুরুল হক শিমুল ও চৌগাছা উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিভিন্ন সমাজ বিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকায় দুবছর আগেই উজ্জলকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাই এ ঘটনায় ছাত্রদলকে জড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, রোববার বিকেলে চৌগাছা শহরের ডাকবাংলোপাড়ার এক বাড়িতে গণধর্ষণের শিকার হয় এক স্কুলছাত্রী। এ সময় তার চিৎকার শুনে এলাকাবাসী থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে আটক ও ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে।