বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মির্জা ফখরুল সম্পর্কে যে কারণে কোনো মন্তব্য করতে চান না অলি আহমদ হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু পশ্চিম তীর নিয়ে ইসরাইলের ‘বিপর্যয়কর’ নীতির সমালোচনায় সাবেক জার্মান রাষ্ট্রদূত ইরানে মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা ৩০টির বেশি দেশের ইন্দোনেশিয়ায় ফেরি অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ ৫ জনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : মির্জা ফখরুলের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে বিএনপি উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে মেধাবী তরুণ নাজমুলের পাশে প্রধানমন্ত্রী দল ও সরকারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি: নতুন অধ্যায়ে মির্জা ফখরুল তিন পার্বত্য এলাকায় খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

ইরানে মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা ৩০টির বেশি দেশের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : 5:05 pm, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ ৩০টির বেশি দেশ বুধবার ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নিন্দা জানিয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ভিন্নমত দমন করতে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিকসহ এসব দেশ ইরানে ‘বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ও মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার অব্যাহত রাখার তীব্র নিন্দা’ জানিয়েছে।

প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভিন্নমত দমন, জনগোষ্ঠীকে ভয় দেখানো এবং মানবাধিকার প্রয়োগকারী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার কখনোই ন্যায্য হতে পারে না।’

এতে আরও বলা হয়, ‘ইরানের জনগণকে কোনো ধরণের ভয় ছাড়াই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে হবে।’

প্রাথমিকভাবে ২৬টি দেশ ও ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস এই বিবৃতিতে যুক্ত ছিলেন। পরে ‘আরও কয়েকটি দেশ এই ঘোষণায় যোগ দেয়।’

ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এএফপিকে জানিয়েছে, এতে স্বাক্ষরকারী দেশের সংখ্যা বেড়ে ৩২ হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জার্মানি এবং ইউরোপের আরও অনেক দেশ ইরানকে ‘অবিলম্বে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার বন্ধ এবং নির্বিচারে আটক সব ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ বাড়ছে। বছরের শুরুতে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর পর ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।

আগস্টের শুরুতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছিলেন, তেহরান ‘ভয় সৃষ্টি করতে’ মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ মার্চ থেকে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত অভিযোগে অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জনের মামলা বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

তুর্ক বলেন, একই ধরণের অভিযোগে আরও শতাধিক মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ন্যায্য বিচার না পাওয়া এবং জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের বিষয়ে সতর্ক করেছে।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে শুরু হওয়া একটি আন্দোলন ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়।

ইরানি কর্তৃপক্ষ ৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল। তবে তারা সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে’ দায়ী করে।

বিদেশভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো আরও বেশি মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে। তারা বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো এক্সে বিবৃতিটি পোস্ট করে বলেন, ‘ন্যায়বিচার ও মর্যাদার দাবিতে ইরানের জনগণের ওপর সংঘটিত ব্যাপক নৃশংসতার সাত মাস পরও সরকার ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে রক্তপাত অব্যাহত রেখেছে।’

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।

এর পর থেকে সংঘাত ও বিক্ষোভ—উভয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানে গ্রেফতার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বেড়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইরানে ২ হাজার ১৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। চীনকে বাদ দিলে এ সংখ্যা বিপুল ব্যবধানে ইরানকে বিশ্বের সর্বাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশে পরিণত করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com