
রাজবাড়ীর গােয়ালন্দে মাদক বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে বিরােধের জেরে শরিফুল ইসলাম (হিরা) (৪০) নামে এক যুবলীগ নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযােগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কামরুল ফকির (৩৬)কে হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে রাজবাড়ী জেলা গােয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও গােয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে গােয়ালন্দ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তােরাইড় মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শরিফুল ইসলাম (হিরা) গােয়ালন্দ পৌর যুবলীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। তিনি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি গােয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাহাদুরপূর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত জাবেদ ভূইয়ার ছেলে। পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম হিরা ও কামরুল ফকির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। মাদক বিক্রির পাওনা ৬ হাজার টাকা নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোেধ চলছিল বলে পুলিশের ভাষ্য। এর মধ্যে সপ্তাহখানেক আগে শরিফুল ৩ হাজার টাকা পরিশােধ করেন। বাকি ৩ হাজার টাকা নিয়ে দুই দিন আগে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে গােয়ালন্দ বাজার থেকে কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন শরিফুল। তিনি তারাইড় মােড় এলাকায় পৌঁছালে কামরুল ফকির তাঁর ওপর ছুরি দিয়ে হামলা করেন বলে জানা গেছে । এ সময় শরিফুলের বুকের পাঁজরে ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার পর কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় লােকজন গুরুতর আহত অবস্থায় শরিফুলকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎ্সেক তাঁকে মৃততে ঘােষণা করেন ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত কামরুল ফকিরকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে রাজবাড়ী জেলা গোেয়েন্দা শাখা ও গােয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে গ্রপ্তার করে । গ্রেপ্তার কামরুল ফকির গােয়ালন্দ পৌরসভায় চলাচলকারী ইজিবাইকের টোল আদায়ের কাজ করতেন। তিনি গােয়ালন্দ পৌরস- ভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুমড়াকান্দি গ্রামের মৃত সিদ্দিক ফকিরের ছেলে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম বলেন, সকালে ছুরিকাঘাতে শরিফুল ইসলাম নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত কামরুল ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পাওনা টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে তিনি শরিফুলকে ছুরিকাঘাত করেন। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানাে হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।