
জার্মানির সাবেক রাষ্ট্রদূত স্টেফান জাইবার্ট ইসরাইল সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। অধিকৃত পশ্চিম তীরে দেশটির ‘বিপর্যয়কর’ বসতি স্থাপন নীতিরও কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। বুধবার প্রকাশিত এক গণমাধ্যম সাক্ষাৎকারে তিনি এ সমালোচনা করেন।
সাপ্তাহিক পত্রিকা ডি জাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাইবার্ট বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের নীতি ‘মানসিক ও শারীরিক সহিংসতার মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত করার’ শামিল।
বার্লিন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
আধুনিক জার্মানি নাৎসি যুগ ও হলোকাস্টের ভয়াবহতার প্রায়শ্চিত্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে অবস্থান করছে।
সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জাইবার্ট তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, মার্কেলের সেই বক্তব্য—‘ইসরাইলের নিরাপত্তা জার্মানির রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বের স্বার্থের অংশ’—এর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমারেখার মধ্যে থাকা ইসরাইলকে বোঝানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘হামাসের প্রাণঘাতী হামলা, হিজবুল্লাহর সমান প্রাণঘাতী পরিকল্পনা অথবা ইরানের কারণে যদি ইসরাইলের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে আমাদের অবশ্যই এই রাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াতে হবে।’
তবে তিনি জাইটকে বলেন, ‘জর্ডান উপত্যকার বসতি স্থাপনকারীদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।’
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনে এগুলো অবৈধ বসতি। এগুলো এমন একটি মতাদর্শের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে যে, এই ভূমি শুধু আমাদের এবং ঈশ্বর এটি আমাদের দিয়েছেন।’
‘রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বের স্বার্থের ধারণা এত দূর বিস্তৃত নয়। এটি অন্য একটি জনগোষ্ঠীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ববোধকে সমর্থন করে না।’
তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনিদেরও এটা জানানো প্রয়োজন যে নিজেদের রাষ্ট্রে বসবাসের ইসরাইলি জনগণের অধিকারকে সম্মান করতে হবে।
জাইবার্ট বলেন, ‘আমরা যখন—সঙ্গত কারণেই—বলি যে আমরা ইসরাইলের পাশে আছি, তখন আমরা কী বোঝাতে চাই, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।’
তবে তিনি বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে ইসরাইল রাষ্ট্রের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপের প্রতি আমাদের সমর্থন রয়েছে। যেমন দখলদারিত্ব, যা এখন ৬০তম বছরে প্রবেশ করছে।’