
সুইডেনপ্রবাসী দম্পতির কাছ থেকে ৩ হাজার ডলার ছিনতাইয়ের অভিযোগে যশোরের ঝিকরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এজাজ আহম্মেদসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে যশোর-বেনাপোল সড়কে ঝিকরগাছার পাঁচপুকুর নামক স্থানে পুলিশ সদস্যরা সঙ্গে থাকা ডলার ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই দম্পতি। তবে শুক্রবার ভোরে স্থানীয় এক ব্যক্তি ওই প্রবাসীর বাড়িতে গিয়ে ডলার ফেরত দিয়ে গেছেন।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক ঝিকরগাছা থানার পাঁচ সদস্যকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাদেরকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। বিনা অনুমতিতে তল্লাশি চৌকি বসানোয় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এসআই এজাজ আহম্মেদ ছাড়া প্রত্যাহার করে নেয়া বাকি চার কনস্টেবল হলেন- আজিজুর রহমান, মামুন হোসেন, বাবর আলী এবং জিয়াউল হাসান।
সুইডেনপ্রবাসী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ও সেবিকা খুকুমনি পারভীন গত ২৫ বছর ধরে সেখানে বসবাস করেন। তাদের জন্মস্থান নড়াইলের কালিয়া উপজেলায়।
মিজানুর রহমান সমকালকে জানান, সম্প্রতি ছুটিতে তারা নড়াইলের কালিয়ায় বেড়াতে আসেন। সেখান থেকে গত ১ জানুয়ারি যান ভারতে। বৃহস্পতিবার বেনাপোল বন্দর দিয়ে ফিরছিলেন। রাতে ঝিকরগাছার পাঁচপুকুর নামক স্থানে এসআই এজাজের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাদের গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালায় এবং সঙ্গে থাকা তিন হাজার ডলার ছিনিয়ে নেয়। এসময় পুলিশ সদস্যরা দুর্ব্যবহার করলে তারা চলে আসেন।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি রাতেই ঝিকরগাছা থানার ওসি মোল্ল্যা খবির আহমেদকে জানালে তিনি ঘটনা সঠিক নয় বলে দাবি করেন। পরে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানার পর শুক্রবার অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করার আদেশ দেন।
ঝিকরগাছায় প্রবাসী দম্পতির ডলার ছিনতাইয়ের আগে গত ২২ জানুয়ারি যশোর সদর ফাঁড়ির এএসআই বাবুলের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়াপ্রবাসী এক যুবককে আটকে রেখে লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠে। টাকা না দেওয়ায় তিন দিন পর তাকে হেরোইনসহ মিথ্যা মামলায় চালান দেওয়া হয়।
জানা গেছে, মিকাইল হোসেন নামের ওই যুবক দু’বছর পর গত ১০ জানুয়ারি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। তিনি যশোর সদর উপজেলার তপসিডাঙ্গা গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে।
সুইডেনপ্রবাসী মিজানুর রহমান আরও জানান, শুক্রবার ভোরে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে আগের দিন ছিনিয়ে নেয়া ৩ হাজার ডলার ফেরত পাঠায় পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে পুলিশ ছিনতাই করেনি মর্মে লিখিত নেয়ারও চেষ্টা চালানো হয়।
কিন্তু এ ধরনের মিথ্যা লিখিত দিতে রাজি না হওয়ায় প্রভাবশালী কয়েকজনের মাধ্যমে পুলিশ দেন-দরবার অব্যাহত রেখেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।