
বর্ষা পেরিয়ে এসেছে শরৎ। আর শরৎকাল মানেই শুভ্র রঙের খেলা। নীল আকাশে সাদা মেঘ আর নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে দোল খাওয়া কাশবন মনে জাগায় অন্যরকম অনুভূতি। শারদীয় এ ঋতুতে ভ্রমণবিলাসীদের প্রথম পছন্দ কাশবন। কাশফুলের ছোঁয়া পেতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ।
সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র মেঘাই পর্যটন কেন্দ্র, মেঘাই সলিড স্পার, মেঘাই নৌবন্দর এলাকা। তবে তার সামনেই জেগে উঠেছে যমুনার বিশাল চর। এ চরে এখনও বসতি গড়ে না ওঠায় কোথাও কোনো বাড়ি-ঘর নেই। দু’চোখ ভরে শুধু কাশবনের ছড়াছড়ি। যমুনার চরে সমুদ্র সৈকতের মতো এমন নৈসর্গিক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো মানুষের মনকে আকৃষ্ট করতে বাধ্য করছে নিমিষেই। এ কারণে বিনোদনপ্রেমীরা প্রতিদিন ভিড় করছেন এখানে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন ছুটে আসছেন। চোখ ধাঁধাঁনো কাশফুলের শ্বেত- শুভ্র-স্নিগ্ধতা যমুনা-সৌন্দর্যে নতুনমাত্রা যোগ করেছে। যমুনার চরে কাশফুলের ঢেউ যেন অন্যরকম মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। এ যেন জেগে ওঠা যমুনার চরে নতুন মিনি পর্যটনকেন্দ্র।
কাজীপুরে যমুনার চরাঞ্চলের জেগে ওঠা বিভিন্ন চরে ও পাড় ঘেঁষেও এমন সৌন্দর্যের হাতছানি। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মেঘাই পর্যটন কেন্দ্র, মেঘাই সলিড স্পার, মেঘাই নৌবন্দর, জয় বাঁধ, নাটুয়ারপাড়া বাঁধ, তেকানী বাঁধ, শহীদ এম মনসুর আলী ইকোপার্ক ও নতুন মাইজবাড়ী চরে সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের ঢল নামছে। শহীদ এম মনসুর আলী ইকোপার্ক, মেঘাই পর্যটন কেন্দ্র, মেঘাই সলিড স্পার ও নাটুয়ারপাড়া বাঁধ ঘুরে দেখা যায়, যমুনাপাড়ে সারিসারি নৌকা দাঁড় করানো রয়েছে। মাঝিদের হাঁকডাকে মুখরিত চারিধার। উপজেলার মেঘাই ও ঢেকুরিয়া পয়েন্টে থেকে নৌকা ভ্রমণের সঙ্গে শুভ্র কাশফুলের ছোঁয়া নিতে অনেক ভ্রমণপিপাসুই এখানেই আসছেন। মুক্তমঞ্চ ও সীমান্ত নোঙরের পাশে খুব সহজেই কাশফুলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগ মিলছে। শুধু সৌন্দর্যের মাঝে নিজেকে হারিয়েই যাচ্ছেন না, স্মৃতির পাতায় প্রিয়জনের সঙ্গে ফ্রেমবন্দিও করতে দেখা যাচ্ছে। পরিবার নিয়ে যমুনাপাড়ে ঘুরতে এসেছিলেন মাসুদ বিউটি দম্পতি। ছোট্ট ফুটফুটে বাচ্চার সঙ্গে কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগে মেতেছিলেন।
যমুনার চরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছেন বগুড়ার শেরপুরের আবু সাঈদ। তিনি বলেন, যমুনার চর, ফুলে ফুলে ভরা চরের সাদা কাশবন এবং চরের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরু খালে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছ। পর্যটকদের কাছে যমুনার বিশাল চর বড় বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এজন্য পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। বাবার সাথে তাল মিলিয়ে সুমাইয়া বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে কাশবনের মাঝে ছবি তুলেছি। সবাই মিলে অনেক আনন্দ করেছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের স্মৃতির ওয়ালেও তা ধরে রেখেছি।
কাজিপুর সরকারি মনসুর আলী কলেজ শিক্ষার্থী রুবেল আহমেদ জানান, মাঝে মাঝেই যমুনার পাড়ে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে ঘুরতে আসা হয়। যমুনার পাড়ের বাতাস, বাতাসে কাশফুলের ঢেউ, বিকেলে প্রকৃতির ভিন্ন এক রূপ। এগুলো নিমিষেই মন ভালো করে দেয়। মেঘাই সলিড স্পারে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, প্রতিদিন কমবেশি মানুষ যমুনার চরে ঘুরতে আসেন। স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ চরে এসে বনভোজন করেন। এখন আবার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। জেগে উঠেছে যমুনার চর। এতে করে দ্বিগুণ মানুষের ঢল নেমে এসেছে। আমাদের ব্যবসা এতে আরও ভালো জমে উঠেছে।
কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আবু সাঈদ জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার কারণে যমুনার তীরে বিশাল কাশবন দেখার জন্য মানুষ ভিড় করছেন। কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, এই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ ভালো থাকায় এখনো বিনোদননের মানুষ আশেন। পুলিশ টহলরত থাকেন। কোথায় কোনো সমস্যা কথা শোনা যায়নি।