
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার মূল আসামীদের আড়াল করে পক্ষপাতমূলক ও বিতর্কিত চার্জশিট দাখিলের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের এমন অপপ্রয়াস ও বিতর্কিত ভূমিকার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টায় ঘোড়াঘাট থানার সামনে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা, ছাত্রদল ও ভুক্তভোগী পরিবার’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচীতে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।
চার্জশিটে প্রকৃত অভিযুক্তদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে এর মামলাটি পুনঃতদন্ত, তদন্তকারী কর্মকর্তা, ঘোড়াঘাট থানার ওসি, সার্কেল এসপির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন আন্দোলনকারী ছাত্রদল ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঘোড়াঘাট বাসস্ট্যান্ড চারমাথা এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে ২৪ আগস্ট ঘোড়াঘাট থানায় মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং-০৭, জি.আর. নং-১২৯/২৪। এতে ৪০ জনের নাম উলে¬খের পাশাপাশি আরও ৭০-৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণ কারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ তদন্ত শেষে দাখিল করা চার্জশিটে হামলায় সরাসরি জড়িত থাকা ফ্যাসিবাদ আওয়ামীলীগের পদধারী প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, তদন্ত চলাকালে বিভিন্ন সময়ে ৬৭ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও চূড়ান্ত চার্জশিটে মাত্র ৫২ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্তদের কয়েকজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার মিলনসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীরা অংশ নেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, তদন্ত প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টা হয়েছে। তারা বিতর্কিত চার্জশিট প্রত্যাহার, প্রকৃত অভিযুক্তদের অন্তর্ভুক্ত করে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল এবং সংশি¬ষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, মামলাটি মনিটরিং সেলে যাওয়ার পর আমাদের সিনিয়র কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনায় মামলাটি তদন্ত শেষে মোট ৫২ জন আসামী করে চার্জশীট দাখিল করা হয়। এখানে অবৈধ লেনদেন কিংবা অনিয়মের সুযোগ নেই।
ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আ. ন. ম. নিয়ামত উল্লাহ্ বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যে কেউ অভিযোগ আনতে পারেন। কারও সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে তিনি আদালতে আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।