বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন

রাজারহাট থানায় ‘চার্জশিট বাণিজ্য’র অভিযোগ, ভুক্তভোগী সাংবাদিকের ক্ষোভ

মামুন চৌধুরী, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম।
  • আপডেট সময় : 11:30 am, বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

কুড়িগ্রামের রাজারহাট থানায় ‘চার্জশিট বাণিজ্য’ ও তদন্তে চরম জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। খোদ স্থানীয় প্রেসক্লাবের এক শীর্ষ সাবির সাংবাদকর্মীর মামলায় বাদী ও এজাহারভূক্ত কোন স্বাক্ষীর জবানবন্দি না নিয়েই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, মোটা অঙ্কের অর্থ বাণিজ্যের বিনিময়ে স্বাক্ষীর ১৬১এ ভূয়া জবানবন্দির নথিপত্র দিয়ে মনগড়া চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতির মেলা থেকে ফেরার পথে হামলার শিকার হন রাজারহাট প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক ইত্তেফাক-এর উপজেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম। উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত আহ্বায়ক আনিছুর রহমানের ছেলে সোহেল আনিছ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর এহামলা চালায় বলে ওই দিনই বাজারহাট থানায় একটি মামলা (মামলা নং-১৭) দায়ের করা হয়। তবে মামলা দায়েরের মাত্র ২৫ দিনের মাথায় বাদী কিংবা এজাহারভুক্ত সাক্ষীদের কারো সঙ্গে কোনো কথা না বলেই তাড়াহুড়ো করে গোপনে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আতিকুল ইসলাম। মামলায় চারজন সাক্ষী থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাঁদের একজনেরও জবানবন্দি নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। গত প্রায় তিন মাস পূর্বে গোপনে চার্জসীট দাখিল করা হলেও দু’দিন পূর্বে বাদী বিষয়টি জানতে পারেন।

মামলার ১নম্বর সাক্ষী গোলাম রব্বানী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তদন্তকারী কর্মকর্তা আমার সঙ্গে কোনো দিন কথা বলেননি অথচ কাগজে-কলমে আমার নামে জ্বাল স্বাক্ষরে জবানবন্দি বানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার অপর সাক্ষী আবদুল্লাহ আল মামুন, বলেন, “২৯ মার্চের ১৭ নম্বর মামলার অন্যতম সাক্ষী আমি। কিন্তু পুলিশের কোনো কর্মকর্তা আমার সঙ্গে যোগাযোগ না করেই আমার ভুয়া জবানবন্দি দিয়ে দূর্বল ধারায় চার্জশিট করেছেন। একই ধরনের বক্তব্য অপর স্বাক্ষীদের।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম বলেন, “রাজারহাট থানায় দীর্ঘদিন ধরে চার্জশিট বাণিজ্যের যে গুঞ্জন ছিল এবার নিজেই তার ভুক্তভোগী হয়ে প্রমাণ পেলাম। বহু টাকার বিনিময়ে পুলিশ এই নিন্দনীয় জালিয়াতি করেছে। একজন পেশাদার সাংবাদিকের মামলার যদি এই অবস্থা হয় তবে সাধারণ মানুষ এখানে কীভাবে ন্যায়বিচার পাবে?

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানার এসআই আতিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি সাক্ষাতে বক্তব্য দেয়ার কথা জানান। অথচ থানায় যাওয়ার পর তিনি উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিষেধ আছে বলে এবিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদের কাছে জালিয়াতি ও চার্জশিট বাণিজ্যের এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিষেধ থাকার অজুহাতে এবিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।#

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com