
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাপুর মীর মশাররফ হোসেন ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ একেএম রুহুল আমিন। চাকুরীর মেয়াদ শেষ হলেও বেতন-ভাতাদির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও কোন উপায় পাচ্ছেন না। এখন শরীরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় বাড়ীতে দিনতিপাত করছেন। আদালতের নির্দেশনা থাকলেও তার পাওনাদি বুঝে পাচ্ছেন না। বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও মিলছে না সমাধান।
অধ্যক্ষ একেএম রুহুল আমিন বলেন, আমি মীর মশাররফ হোসেন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালে হামলার শিকার হই। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। ক্রিঃ ৪০/০৮ মামলায় হামলাকারীরা সাজাপ্রাপ্ত হয় ও পরে জামিন নেয়। ফৌজদারী অভিযোগ মামলাটি হাইকোটে ৩৫০০১/১৯ বিচারাধীন শুনানী চলমান। এ সাজা মামলার কারণে বালিয়াকান্দি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদকে প্রদানকৃত সম্মানীভাতা ও বাড়ী ভাড়া ফেরত, সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই মামলায় সাজা হওয়ার পরও কলেজে চাকুরীতে বহাল আছে। তারা বেতন বিল নিচ্ছে, এমনকি সাজার আসামী প্রভাষক মোঃ কামাল হোসেন অবৈধভাবে বর্তমান কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ বানিজ্য, সকল অনিয়ম দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তৎকালীন বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিবানী ভট্টাচার্য্য কলেজ কমিটির সভাপতি হিসেবে শাহ-জালাল, মোঃ রাজ্জাকুল আলম, মোঃ মাহফুজুর রহমান, মোঃ ইউসুফ হোসেন, ফরিদ আহমেদ, আব্দুর রহমান, আলী আযম, জাহিনুর ইসলাম, ওয়াজেদ আলী, সাহিদুর রহমান, আব্দুল লতিফ, মালেকা আক্তার, রোজিসহ ১৩ জন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে এদের নিয়োগপত্রের মূল কাগজপত্রাদি না পেয়ে বেতন অবৈধভাবে নেওয়া, বিল বন্ধ করেন।
তিনি বলেন, ২০০২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সভাপতির লিখিত পত্র আছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সিদ্ধান্তে ২০১০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর কলেজে আমার বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহারপত্র কলেজ কর্তৃপক্ষকে দেয়। আমাকে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করতে না দিয়ে সেই অবৈধভাবে পদের দায়িত্ব পালন করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর আমাকে দায়িত্বভার বুঝিয়া দেয়া এবং বকেয়া পাওনাদি পরিশোধ করার জন্য অনুরোধ করেন। ২০১১ সালের ১৯ জানুয়ারী পত্র, ২০১২ সারের ৯ এপ্রিল পত্র, ২০২১ সালের ২২ নভেম্বর আমাকে বকেয়া বেতন ভাতা, অবসরভাতা এবং কল্যাণ ট্রাষ্ট ভাতা প্রদানের পত্র দিলেও কাজ করতে স্বাক্ষর, প্রত্যায়ন দেয় না।
অধ্যক্ষ বলেন, আমি শারিরীকভাবে খুবই অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছি। মোঃ কামাল হোসেন আমাকে বলেন, আমাদের সাজা মামলা তুলে নেন, আর আমার করা ডিগ্রীর জাল নিয়োগপত্রে আপনী স্বাক্ষর দিলে আপনার অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাষ্ট এবং পাওনা বে-সরকারী টাকার সব ব্যবস্থা করবো, তা না হলে পারবো না। এ কারণে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত কোন প্রতিকার পাইনি।
মীর মশাররফ হোসেন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ কামাল হোসেন খান বলেন, হাইকোর্ট থেকে যে রায় দেওয়া হয়েছে, সেখানে আমার কোন নির্দেশনা নেই। এ কারণে আমি তার কোন
কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে পারি না। নির্দেশনা পেলে অবশ্যই দিবো। বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু মামলার থাকার কারণে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় কলেজের অধ্যক্ষসহ এখন পর্যন্ত প্রত্যায়ন দেয়নি। তবে তাদেরকে নিয়মানুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে।