
মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ও বিশ্বজুড়ে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। একদিনেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমেছে ২ শতাংশের বেশি। তেলের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন ধারণার কারণেই মূলত বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের বাজার থেকে হাত গুটিয়ে নিচ্ছেন। খবর রয়টার্সের।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স কাঁচা স্বর্ণের দাম ২ শতাংশ কমে চার হাজার ৪৭৪.৪০ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে এই দাম গত ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। অন্যদিকে, আগামী জুন মাসে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৪৭৬.৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘মারেক্স’-এর বিশেষজ্ঞ এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, আমরা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে প্রকৃত সুদের হার বাড়তে দেখছি। এর সঙ্গে মার্কিন ডলারও দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। এই দুটি কারণেই মূলত স্বর্ণের দামের ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড (বন্ডের মুনাফা) বর্তমানে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। যেহেতু স্বর্ণে বিনিয়োগ করলে সরাসরি কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না, তাই বাজারে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের চেয়ে বন্ডে বিনিয়োগ করাকে বেশি লাভজনক মনে করেন। এর ফলে স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়। তা ছাড়া ডলারের দাম বাড়ার কারণে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।