মদন-ফতেপুর সড়কে বেহাল অবস্থার কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে লোকজন। ১৩ কিলোমিটার সড়কের বেশির ভাগ অংশ ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সামান্য বৃষ্টির পানি জমে ডোবায় পরিণত হচ্ছে। পৌরসভাসহ তিনটি ইউনিয়নের ২৫টি গ্রামের লোকজনের যাতায়াতের বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন হাজারো স্থানীয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মদন উপজেলার কার্যালয় ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, মদন-ফতেপুর ১৩ কিলোমিটার সড়ক পৌর সদরের সঙ্গে তিনটি ইউনিয়নকে যুক্ত করেছে। মদন সদর ইউনিয়ন, তিয়শ্রী ইউনিয়ন ও ফতেপুর ইউনিয়নের ২৫টি গ্রামের লোকজন এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
কিন্তু বিকল্প কোনো যাতায়াতব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই বাধ্য হয়ে যাতায়াত করছে লোকজন। সময় নষ্টের পাশাপাশি গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়াও।
যাতায়াতকারী আব্দুল্লাহ, আমিনুল হক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মদন-ফতেপুর সড়কটি সংস্কার করা হয় না। সারা সড়কে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় কাদা পানি লেগেই থাকে।
বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কষ্ট করে প্রতিদিন লোকজন যাতায়াত করছে। অতিরিক্ত টাকা ছাড়া গাড়িচালকরাও যাত্রী নিয়ে যেতে চায় না। কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি-সড়কটি যেন দ্রুত সংস্কার করে দেয়।
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার তালুকদার সফি জানান, ‘উপজেলা সদরে যাওয়ার জন্য আমার ইউনিয়নের আটটি গ্রামের বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। আমার ইউনিয়নসহ তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি গ্রামের লোকজন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে।
দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থা থাকলেও সংস্কারে তেমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বেহাল সড়ক দিয়ে বাধ্য হয়েই আমরা প্রতিদিন যাতায়াত করছি। আমরা চাই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হোক।’
মদন উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়াল জানান, ‘মদন-ফতেপুর সড়কটি আরসিআইপি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য আমরা চেষ্টা করছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আলম মিয়া জানান, ‘মদন-ফতেপুর সড়কটির বর্তমানে বেহাল অবস্থা। সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি।’