বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান “হয় অর্থ, নয় রক্ত” উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি ক্যারিয়ারের এমন স্বীকৃতি কেইনকেই মানায় মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত লড়াইয়ে পরিণত করার কৌশল হতে পারে বুমেরাং কোচদের সেরা দে লা ফুয়েন্তে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ মোকাবিলায় ভারতে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠকে জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা সানায়ে তাকাইচির স্ত্রী-ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

রেলওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় স্টেশনে সন্তান প্রসব করলেন প্রসূতি

সিএনআই নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : 7:46 pm, শুক্রবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৩

তীব্র প্রসব ব্যথা উঠায় মাঝপথে যাত্রা বিরতি দিয়ে রেলওয়ে থানা পুলিশের সার্বিক সহযোগিতায় জামালপুর রেলস্টেশন প্লাটফর্মে এক পুত্র সন্তান প্রসব করেছেন সীমা বেগম (২৮) নামের এক ট্রেনযাত্রী। তার বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার উত্তর কালিকাপুর গ্রামে। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই পরিস্থিতিতে পড়েন ওই প্রসূতি। নবজাতক ও প্রসূতি সুস্থ আছেন।
তারা তাদের বাড়িতে ফিরে গেছেন।

রেলওয়ে থানা ও প্রসূতি সীমা বেগমের পরিবারের স্বজনরা জানান, প্রসূতি সীমা বেগম গাজিপুরের ভাওয়াল মীর্জাপুরে প্যাকেটজাত খাবার তৈরির কারখানার শ্রমিক। তার স্বামী মো. শাহজল পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। তাদের আরও দুই ছেলে রয়েছে।
ভাওয়াল মির্জাপুরে ভাড়া বাসায় থেকে এই দম্পতি জীবিকা নির্বাহ করেন। সন্তান প্রসবের সময় হওয়ায় স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে রেখে যাওয়ার জন্য শুক্রবার সকালে গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলস্টেশন থেকে তারা দেওয়াগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনে উঠেন। ট্রেনটি ময়মনসিংহ রেলস্টেশন ছাড়ার পর থেকেই প্রসূতি সীমা বেগমের প্রসব ব্যথা উঠে। ট্রেনটি জামালপুর রেলস্টেশনে পৌঁছার কয়েক মিনিট আগে ট্রেনের ওই কামড়া থেকে যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজন জামালপুর রেলওয়ে থানায় ফোন করে প্রসূতির বিষয়টি জানান।
যাত্রীরা প্রসূতিকে জামালপুর রেলস্টেশনেই নামানোর পরামর্শ দেন। ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে থানার ওসি মো. গোলজার হোসেন একদিকে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করেন। অন্যদিকে থানার নারী কনস্টবলদের প্রস্তুত থাকতে বলেন।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ট্রেনটি জামালপুর রেলস্টেশনে থামে। ট্রেনের কামড়ার দরজা থেকে প্রসূতি সীমা বেগমকে প্লাটফর্মে নামানোর সঙ্গে সঙ্গে তার স্বাভাবিক প্রসব প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এ সময় অন্যান্য নারী যাত্রী ও তৃতীয় লিঙ্গের কয়েকজন সদস্য তাদের ওড়না ও সাথে থাকা বাড়তি কাপড় দিয়ে ওই প্রসূতিকে ঘের দিয়ে রাখেন। ভেতরে নারী কনস্টবল কল্পনা রানী প্রসূতিকে সার্বিক সহযোগিতা করেন। এরই মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনে পৌঁছায়। পরে ডা. খাদিজা খাতুন প্রসূতির জন্য কিছু ওষুধ প্রেসক্রিপশন করে কয়েক ঘন্টা বিশ্রাম নেওয়ার পর বাড়িতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে প্রসূতি ও নবজাতককে নিয়ে দেওয়ানগঞ্জে বাড়িতে চলে যান স্বজনরা।

প্রসূতির স্বামী মো. শাহজল কালের কণ্ঠকে বলেন, “আজকে রেলওয়ে থানার ওসি স্যার, অন্যান্য পুলিশ ভাইবোন, ট্রেনের যাত্রী, ডাক্তারসহ সবাই আমার স্ত্রীর পাশে দাঁড়াইছে। তার কোনো ক্ষতি হয় নাই। স্ত্রীকে নিয়ে আমি খুব বিপদে পড়ছিলাম। আল্লাহর রহমতে আমার স্ত্রী ও নবজাতক সন্তান সুস্থ আছে। সবাই যেভাবে সাহায্য করছে আমি এই ঋণ কোনোদিনও শোধ করতে পারমু না।”

জামালপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলজার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, “ট্রেন থেকে যাত্রীদের ফোনে একজন প্রসূতির জরুরি পরিস্থিতির কথা শোনা মাত্রই প্লাটফর্মে শালীনতা বজায় থেকে সন্তান প্রসবের জন্য সব প্রস্তুতি নিয়ে ফেলি। নারী কনস্টবল ও অন্যান্য নারী যাত্রীদের দিয়ে প্রসূতি সীমা বেগমকে ট্রেনের কামরা থেকে প্লাটফর্মে নামাই। আমরা উপস্থিত থেকে সেখানে দায়িত্ব পালন করি। আমাদের কাজটাই হলো সেবামূলক। ট্রেনের যাত্রা পথে বিপদে পড়া ওই প্রসূতিকে আমরা তাৎক্ষণিক সেবা দিতে পেরেছি। নবজাতক ও তার মা সুস্থ আছে। এতেই আমরা খুব খুশি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com