রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ অপরাহ্ন

কাল থেকে কমবে বৃষ্টি, বাড়বে শীত

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : 1:40 pm, সোমবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২১

সিএনআই নিউজ:

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তদসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরো উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়বে। এর প্রভাবে আজ সোমবারও দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টি ঝরতে পারে। কাল মঙ্গলবার থেকে কমতে পারে বৃষ্টি। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এর পর থেকে তাপমাত্রা কমবে আর শীত বাড়বে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে মাঠের পাকা ধান নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। যেখানে একটু বেশি বৃষ্টি হয়েছে সেখানে ধানগাছ হেলে পড়েছে। এতে অনেক ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন কৃষকরা।

আবহাওয়াবিদ এ কে নাজমুল হক গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি রবিবার দুপুরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছিল। এরপর সন্ধ্যায় তা নিম্নচাপে পরিণত হয়।’

গতকাল সন্ধ্যায় আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

নিম্নচাপটি গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৬৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৪৫ কিলোমিটার, মোংলা বন্দর থেকে ৪৭৫ কিলোমিটার ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের টানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ৪৪ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে।

নিম্নচাপটির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্র বৃষ্টি হতে পারে।

গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে—ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বেশির ভাগ জায়গায়; রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে বাগেরহাটে দুই দিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে বইছে হিমেল হাওয়া। জোয়ারে নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে পানি বেড়েছে। জোয়ারের অস্বাভাবিক পানি এরই মধ্যে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকতে শুরু করেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে পাকা আমন ধান এবং শীতকালীন সবজির ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার জেলে পল্লীর শুঁটকি তৈরির সব মাছ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় তিন কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। উত্তাল ঢেউয়ে টিকতে না পেরে শুঁটকি ও সাধারণ জেলেরা সাগর ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। সহস্রাধিক মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলার বর্তমানে আলোরকোল, নারকেলবাড়িয়া, শ্যালা, মাঝের কিল্লাসহ শুঁটকি উৎপাদনকারী চারটি চরের বিভিন্ন খালে অবস্থান করছে।

সাতক্ষীরার নদ-নদীতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে দুই ফুট বেড়েছে। আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের নুরে আলম জানান, দুপুরের জোয়ারে কপোতাক্ষ নদে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বেশি পানি ছিল। বর্তমানে অমাবস্যার গোন চলছে। মোংলা সমুদ্রবন্দর এলাকায় গতকাল ভোর থেকে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্নের পাশাপাশি শীতও জেঁকে বসেছে। তবে বন্দরে অবস্থানরত খাদ্যশস্যসহ অন্যান্য পণ্যবাহী বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য ওঠা-নামা ও পরিবহনের কাজ স্বাভাবিক রয়েছে। আবহাওয়া খারাপ থাকায় জেলেরা জাল, নৌকা, ট্রলার নিয়ে চরে অবস্থান করছেন।

বরগুনার আমতলীতে বেশির ভাগ জমির ৮০ শতাংশ রোপা আমন ধান প্রায় পেকে গেছে। যতটুকু বাকি আছে তা আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে পেকে যাওয়ার পর পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। এখন বেশি বৃষ্টি হলে ধান ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়বে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে গতকাল দুপুরে জোয়ারে স্বাভাবিকের চেয়ে দুই-আড়াই ফুট পানি বেড়েছে।

যশোরের চৌগাছায় রোপা আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে। দিনভর বৃষ্টিতে মাঠে কেটে রাখা আমন ধান পানিতে ভিজে একাকার হয়ে গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com