হিংস্র কুকুরদলের আক্রমণে যুবক নিহতের ঘটনার ১৭ দিন পর ফের পাগলা কুকুরের কামড়ে পৌরসভার দুইটি ওয়ার্ড ও গ্রামে নানা বয়সি কমপক্ষে ২৭ জন আহত হয়েছেন। তারা সবাই বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার (৬ জুন) সকালে এমন ঘটনা ঘটে ময়মনসিংহের নান্দাইলে। পরে উত্তেজিত জনতা দুইটি কুকুরকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভার ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে পাছপাড়া উত্তর ও দক্ষিণ মহল্লায় গিয়ে দেখা গেছে, লোকজন হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে বের হচ্ছে। সবার মধ্যেই কুকুর আতঙ্ক বিরাজ করছে। পাছপাড়া উত্তর মহল্লার মো. আবদুর রাশিদ (৬৫) জানান, তার পুত্র মো. তানিম মিয়া (২০) গতকাল সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে পুকুরের পাড়ে গিয়ে বসলে পেছন থেকে কুকুর এসে কামড় বসিয়ে দেয়। আহত অবস্থায় তাকে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
পরে চিকিৎসকের পরামর্শে জলাতঙ্ক রোগের ইনজেকশন দেওয়ার জন্য তানিমকে কিশোরগঞ্জে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ওই মহল্লায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুটি কুকুর অনেককে কামড়িয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। মহল্লার মুসলেম উদ্দিন (৭০), নুর মোহাম্মদ (৬০), সেলিনা বেগম (৪৫), মরিয়ম আক্তার (৮), গোবিন্দ (৫), মো. সাহেদা খাতুন (৪৫), রিসান (৪), মো. আশিক (১৪), সেলিনা (৪৫), মোসলেম উদ্দিন (৬৫), আলমগীর (৫০), যুহাদ (১০), বাদল মিয়া (১৪), তুষার (৮), সাউদা (৫), হোসনা (১২), মামুন মিয়া (৩২) কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। আহতদের শরীরে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে বলে মহল্লাবাসী জানিয়েছেন।
এর পর থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে লোকজন দুটি কুকুরকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। কুকুর মেরে ফেলা ঠিক নয় জানালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহল্লার দুজন মধ্যবয়সী বাসিন্দা বলেন, চোখের সামনে কুকুরের কামড়ে আহত সন্তানদের রক্তাক্ত দেহ দেখার পর কার মাথা ঠিক থাকে বলুন।
অন্যদিকে আরো প্রায় ১০ জনকে কুকুরে কামড়িয়েছে বলে জানা গেলেও নাম সংগ্রহ করা যায়নি। তাদের নান্দাইল, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নান্দাইল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সাতজন চিকিৎসা নিয়েছে।
এ ব্যাপারে নান্দাইল থানার ওসি আব্দুল মজিদ জানান, তিনি সকালেই বিভিন্ন এলাকা থেকে কুকুরে কামড়ানোর খবর পেয়েছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে জানানো হয়। যাতে করে কেউ কুকুর মেরে না ফেলে।
নান্দাইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হারুনর রশিদ বলেন, বেওয়ারিশ বা হিংস্র কুকুরের উপদ্রব শুরু হলে পৌর কর্তৃপক্ষ এসব কুকুর আটক করে প্রাণিসম্পদ কার্যালয় পৌঁছে দেবে। এ ক্ষেত্রে তাদের পক্ষ থেকে পৌর কর্তৃপক্ষকে টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেওয়া হবে। আটক কুকুর প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে এনে দশ দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। কুকুরটি পাগল হলে ১০ দিন পর সেটি মারা যাবে। আর কুকুরটি ভালো হলে ভ্যাকসিন দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে পৌরসভার মেয়র রফিক উদ্দিন ভুইয়া বলেন, এটা পৌরসভার কাজ নয়। যা করার প্রাণিসম্পদ কার্যালয় করবে। যদি সাপোর্ট লাগে, তবে সহযোগিতা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে ভোরে পৌরসভার নান্দাইল চারআনিপাড়া মহল্লা নদীর পাড়ে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় মো. ইজাজুল (৩০) নামে এক যুবককে হিংস্র কুকুর আক্রমণ করে কামড়ে ঘটনাস্থলেই মেরে ফেলে। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা পরদিন কমপক্ষে ১৫টি কুকুর পিঠিয়ে মেরে ফেলে।