বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন

ধর্ষন নিয়ে যত উদ্বেগ !- এসপি ঢাকা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : 7:44 pm, মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৭

sP_mIZAN_DHAKAঅনলাইন ডেস্ক, সিএনআই নিউজ : ধর্ষন নিয়ে সম্প্রতি ফেইসবুকে এসপি ঢাকা আইডি থেকে বর্তমান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান একটি ষ্ট্যাটাস দেন। ষ্ট্যাটাসটি সময়োপযোগী ও বাস্তব সম্মত বলে অনেকে মত দেন। সিএনআই নিউজ পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমানের ষ্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরলো।

ইদানীং ধর্ষনের ব্যাপকতা নিয়ে পত্র পত্রিকার রিপোর্ট গুলো দেখে মনে হলো এ ব্যাপারে কিছু লেখা প্রয়োজন। বাংলাদেশে প্রতি ক্ষেত্রে স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে এত বেশী রাজনীতি হয় যে, প্রকৃত চিত্র আর সমস্যা গুলো আড়ালে পড়ে যায়।
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন স্থানে ধর্ষনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় মামলা হচ্ছে। আর এ কারণে এ সংক্রান্তে পত্র পত্রিকায় প্রতিবেদন ও প্রকাশিত যতগুলো মামলা থানায় রুজু হচ্ছে তা সবগুলোই এ ধর্ষনের ঘটনা কিনা তা কি আদৌ আমরা খতিয়ে দেখেছি
ধর্ষনের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার ৮০% হতে ৮৫% হচ্ছে ভিকটিম ও আসামীর মধ্যে প্রনয়জনিত কারণে সম্মতির মাধ্যমে। পরবর্তীতে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে তখন তা অভিযোগ আকারে আসছে এবং যেহেতু ভিকটিম ক্ষেত্র বিশেষে নিজে বাদী বা ম্যাজিস্টেটের নিকট ২২ ধারায় জবানবন্দীতে ধর্ষন হিসাবে বিষয়টি অখ্যায়িত করার চেষ্টা করছে বলেই মামলাগুলোতে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হচ্ছে। পরবর্তীতে বিচার কালীন সময় উভয়পক্ষের মধ্যে আপোষ মীমাংশা হয়ে যাচ্ছে বলে শতকরা প্রায় ৯৯% মামলাটি বিচারে আসামীরা খালাস পেয়ে যায়।
অন্যদিকে ১৫% হতে ২০% মামলার ক্ষেত্রে ধর্ষনের সংঙ্গা অনুযায়ী যেভাবে অপরাধের সংঙ্গা দেওয়া আছে তার সাথে ঘটনার বিন্যাস মিলে যায় এবং এই সকল মামলার ক্ষেত্রে প্রায় ৯৫% মামলার বিচারে সাজা হচ্ছে।
কিন্তু আমাদের পত্রপত্রিকায় সাংবাদিক ভায়েরা ও সুশীল সমাজ প্রকৃত ঘটনা গুলোকে বিশ্লেষন না করে বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপিত করছেন যেন, মনে হচ্ছে সরকার নিজেই তার কর্মী সমর্থক দ্বারা ধর্ষনের ঘটনা গুলো একে একে ঘটিয়ে যাচ্ছেন আর পুলিশ বাহিনী নির্বিকার ভাবে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহন ব্যতিরেকে হাত গুটিয়ে বসে আছে।
পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ এবং টিভির টকশোর বিশ্লেষন দেখে যে কারো ধারনা হতে বাধ্য যে, সরকারের পৃষ্টপোষকতায় এবং পুলিশের প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে বুঝি এই ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। অপর দিকে রাজনীতির মাঠ তো আরো গরম। এর ফলে কি ক্ষতি হচ্ছে তা কি আমরা অনুধাবন করছি ?
আমাদের অব্শ্যই ভাবতে হবে যে, আকাশ সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির বিকাশ এর নেতিবাচক ব্যবহার আমরা করছি। পাশাপাশি পারিবারিকভাবে আমাদের তরুন প্রজন্মের কর্মকান্ডগুলো যথাযথভাবে পারিবারের সিনিয়র সদস্য কর্তৃক মনিটর করা হচ্ছে না। ফলে সমাজে নীতি নৈতিকতার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। প্রেম বা ভালোবাসার পবিত্রতম যে ভাব তা তিরোহিত হয়ে তা শারীরিক সর্ম্পকে প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে সমাজ ব্যবস্থার আড়ালে অবডালে পর্দার অন্তরালে যুবক যুবতিরা প্রেম বা ভালোবাসার নামে দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে একে অপরের শ্রদ্ধাবোধ ও বিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। বাড়ছে অবিশ্বাস, অস্থিরতা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন। ঘটছে ধর্ষন জনিত মামলার অবিশ্বাস্য উর্দ্ধগতি। সমাজ হচ্ছে বিচলিত, সরকার ও পুলিশী ব্যবস্থা হচ্ছে প্রশ্ন বিদ্ধ।
তাই সম্মিলিতভাবে সমস্যার গভীরে প্রবেশ করে ধর্ষনের ন্যায় অপরাধের মোকাবেলা করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com