
সিএনআই নিউজ : সরকার তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার মাধ্যমে নতুন রূপে বাকশালী শাসন কায়েম করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মহিলা দল আয়োজিত বগুড়ায় চাঞ্চল্যকর কিশোরী ধর্ষণ ও মা মেয়েকে নির্যাতনের নিন্দা ও ঘটনার গ্রেফতারকৃত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবি’ উপলক্ষে এক মানববন্ধনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজকে আপনারা বাকশাল করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা। প্রতিদিন গণমাধ্যমের নেতা ও সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে, গ্রেফতার করা হচ্ছে, জেলে পাঠানো হচ্ছে। বাকশাল একটু অন্য কায়দায়, অন্য ফর্মে প্রতিষ্ঠিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনেক তুফান আপনারা তৈরি করেছেন, আপনারা তুফান দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় দিয়ে আর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশকে ঐতিহাসিক অভিহিত করে বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি জাতিকে আশান্বিত করেছেন। তবে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য অনেক কালো আইন তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রে যখন নির্দয়, কর্তৃত্বপরায়ণ ব্যক্তির আধিপত্যে সব প্রতিষ্ঠান ধবংসপ্রাপ্ত এবং রাষ্ট্রের উঁচু পর্যায় থেকে আদর আর সোহাগে দেশের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে দুর্দমনীয় যুবলীগ-ছাত্রলীগ-শ্রমিক লীগের অপকর্মে মাতম সৃষ্টি হয়েছে বাড়িতে বাড়িতে। এরকম এক ভয়ঙ্কর দুঃসময়ে সুপ্রিম কোর্ট যে যুগান্তকারী রায় কালকে দিয়েছেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুন:স্থাপন করে। এখানে আইনের শাসনের যাত্রাপথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এদেশের মানুষের কিছুটা হলেও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক রায়। আজকে গোটা জাতি যখন বন্দি করা হয়েছে একদলীয় দুঃশাসনের করাল গ্রাসের মধ্যে, সেসময়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতি এক অসীম সাহসিকতার রায়টি দিয়েছেন। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করে গোটা জাতির মধ্যে কিছুটা হলেও আশা জাগিয়ে তুলতে পেরেছেন।
দেশ ক্ষমতাসীনদের রাহুগ্রাসে আক্রান্ত মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আমরা কী আফ্রিকার জঙ্গলে বাস করছি নাকী একটি সভ্য দেশে বাস করছি? আজকে আমাদের প্রশ্ন হলো বাংলাদেশকে কোন রাহুগ্রাস আচ্ছন্ন করে দিলো? আমি আশঙ্কিত। যদি এই সরকারের বিন্দুমাত্র লজ্জাবোধ থাকে, আত্মসম্মানবোধ থাকে তাহলে এই মুহূর্তে তাদের পদত্যাগ করা উচিৎ। জনগণের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা তাদের করা উচিৎ।
তিনি বলেন, এটা কিভাবে সম্ভব? একজন নিরহ তরুণী-কিশোরীকে কলেজে ভর্তি করে দেবার কথা বলে তার সম্ভ্রমহানি করা হয়েছে। কারা করেছে? যারা এই কাজ করছে তাদের ওপর সরকারের অথবা যারা ক্ষমতাবান, যারা প্রশাসন ও এদেশের শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে তাদের যদি রহমত না থাকে তাহলে কে এই ধরনের অপকর্ম করতে সাহস করবে?
বগুড়ায় দুই নারী নির্যাতনের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত দিয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আমি শুধু বলব, আজকে ওই অপরাধ যে করেছে, তার যারা সহযোগী ছিলো শুধু তাদেরকে দোষারোপ করবো না, আমি প্রশ্ন করবো তাদেরকে কারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে এবং আজকে দেশ-জাতিকে কারা রাহুগ্রস্থ করেছে তার জবাব সরকারকে দিতে হবে। আমি স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। আজকে যতই তাদের শক্তি থাকুক, যতই ক্ষমতা থাকুক, বুঝতে হবে তাদের শক্তি হচ্ছে বন্দুকের শক্তি, তাদের শক্তি হচ্ছে সন্ত্রাসের শক্তি। এভাবে তো কোনো দেশ চলতে পারে না। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারকে ক্ষমতা ছেড়ে সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার দাবিও জানান মঈন খান।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আজকে দেশের সমস্ত সমাজ ব্যবস্থা ধবংস করে দেয়া হয়েছে। এ সরকার দেশে কোনো ভালো কাজ করতে পারেনি, তারা জনগণের কোনো কল্যাণ করতে পারেনি। তারা একটি মাত্র কাজ করেছে এদেশে যত রকমের অন্যায়-অত্যাচার-অপকর্ম এগুলোর প্রসার ঘটিয়েছে এবং এদেশে যেসমস্ত প্রতিষ্ঠান, তাকে একের পর এক ধ্বংস করে দিয়েছে। সারাদেশে নারী নির্যাতনের জন্য ক্ষমতাসীনদলকে অভিযুক্ত করে এর নিন্দা জানান মঈন খান।
সভাপতির বক্তব্যে আফরোজা আব্বাস বলেন, তুফান সরকার, তার ভাইসহ তাদের সহযোগীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি দাবি করেন।
দুই নারীর ওপর ক্ষমতাসীনদের নির্যাতনের নিন্দা ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানানো হয় মানববন্ধন থেকে। মহিলা দলের নেতাকর্মীরা ওই ঘটনার প্রতিবাদে কালো কাপড় মুখে বেঁধে প্রতিবাদ জানান। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, যুগ্মসম্পাদক হেলেন জেরিন খান, কেন্দ্রীয় নেতা পেয়ারা মোস্তফা, শামসুন্নাহার ভুঁইয়া প্রমুখ।