বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ধামরাইয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও কোপানোর অভিযোগ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১ জন হাসপাতালে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ৪০ রাউন্ড গুলি করে ইউপিডিএফ, সাজেক থেকে ৩০০০ পর্যটক উদ্ধার ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরু করতে ‘প্রস্তুত’ রাশিয়া, তবে চুক্তির বিষয়ে অনাগ্রহী আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে: স্পিকার সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে : তথ্যমন্ত্রী কোমোর কাছে হতাশাজনক হারের পরও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন ক্যারিক কাজীপুরে ৭৩ পিস ইয়াবাসহ আটক ৩  প্যারিসের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, ট্রাম্পের দিকে মাখোঁর কটাক্ষ কোমোর কাছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লজ্জাজনক হার

কোমোর কাছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লজ্জাজনক হার

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : 5:38 pm, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বুধবার কোমোর কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দলের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সে চাপে পড়েছেন সমালোচনার মুখে থাকা কোচ মাইকেল ক্যারিক।

কোমোর ঐতিহাসিক জয়ে দুর্দান্ত ভূমিকা রেখেছেন নিকো পাজ। আর্জেন্টাইন এই ফুটবলার জোড়া গোল করেছেন। ইতালির ক্লাবটির হয়ে বাকি গোল দুটি করেন তাসোস দুভিকাস ও হাকোবো রামন।

ম্যাচের শেষ দিকে জশুয়া জির্কজির একটি গোল ইউনাইটেডকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের ইতিহাসে যৌথভাবে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের লজ্জা থেকে রক্ষা করে। তবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচে জয়হীন থাকার হতাশা কাটেনি সংকটে থাকা দলটির।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন ড্র ও তিন হারের বাজে ধারায় ইউনাইটেডের কোচ ক্যারিকের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছিল। এর ফলে গত ৪০ বছরের মধ্যে ঘরোয়া লিগে নিজেদের সবচেয়ে বাজে শুরুর রেকর্ড গড়ে দলটি।

তবে উত্তর ইতালির ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টির মধ্যে খেলতে নেমে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স দেখায় রেড ডেভিলসরা। কোমোর সামনে কার্যত অসহায় আত্মসমর্পণ করে তারা। ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে তিন পয়েন্টেই আটকে রয়েছে ইউনাইটেড।

গত তিন বছরে সিরি-বি থেকে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় উঠে আসার অবিশ্বাস্য গল্প লিখেছে সেস ফ্যাব্রেগাসের কোমো। তবে তিনবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ইউনাইটেডকে এমনভাবে বিধ্বস্ত করার ঘটনা ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন হয়ে থাকবে।

স্তাদিও জিউসেপ্পে সিনিগাগ্লিয়ায় আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের খেলোয়াড় পাজ অসাধারণ দুটি ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় গোল করেন। মাঝখানে দুভিকাসও দারুণ দক্ষতায় গোল করেন। পরে রামনের হেডে ব্যবধান ৪-১ করেন তিনি। এই জয়ে লিগ পর্বে দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে কোমোর পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়ে।

দুই দলেরই একাধিক খেলোয়াড় চোটে থাকলেও ক্যারিকের একাদশে বড় চমক ছিল ডিফেন্ডার ম্যাথিয়াস ডি লিটের প্রত্যাবর্তন। চোটের কারণে ১১ মাস মাঠের বাইরে থাকার পর প্রথমবার খেলতে নামেন তিনি। নিষেধাজ্ঞায় থাকা লেনি ইয়োরোর পরিবর্তে একাদশে জায়গা পান ডি লিট।

শুরুর দিকে দিয়োগো ডালোটের শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টা আক্রমণে উঠে নিজেদের আক্রমণাত্মক দক্ষতার পরিচয় দেয় কোমো।

বক্সের প্রান্তে বল পেয়ে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচের মাত্র দুই মিনিটের মাথায় স্বাগতিকদের স্বপ্নের সূচনা এনে দেন পাজ।

ইউনাইটেডের রক্ষণভাগের পুরোনো দুর্বলতাগুলো আবারও প্রকাশ্যে চলে আসে। গত সপ্তাহে এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে হারের ম্যাচেও প্রথম মিনিটের মধ্যে গোল হজম করেছিল দলটি। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ ম্যাচে মাত্র একবার গোল হজম না করার কৃতিত্ব দেখাতে পেরেছে তারা।

গোল পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় কোমোর। বলের দখল ধরে রেখে তারা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে দিশাহীন ইউনাইটেড প্রথমার্ধে টার্গেটে কোনো শটই নিতে পারেনি। এ সময় দুভিকাস ও মার্টিন বাতুরিনার মাধ্যমে নিজেরাও বেশ কয়েকটি আক্রমণ তৈরি করে কোমো।

দলের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সে গতি ফেরাতে বিরতির পর একসঙ্গে দুজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন ক্যারিক। আন্দ্রে সান্তোস ও মাতেউস কুনিয়ার পরিবর্তে মাঠে নামেন আমাদ দিয়ালো ও কার্লোস বালেবা।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবারও অসতর্ক হয়ে পড়ে ইউনাইটেড। পাজের বাড়ানো থ্রু বল ধরে গ্রিসের ফরোয়ার্ড দুভিকাস দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র তিন মিনিটে প্রথম স্পর্শেই বল জালে পাঠান। এতে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।

কোমোর অধিনায়ক লুকাস দা কুনহা দুর্দান্ত একটি সুযোগ পেয়েও বাইরে মেরে ব্যবধান বাড়াতে ব্যর্থ হন।

তবে গোলের জন্য স্বাগতিক সমর্থকদের বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। মাঝমাঠে দ্বিধাগ্রস্থ বালেবার কাছ থেকে বল কেড়ে নেন পাজ। এরপর দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ৫৭ মিনিটে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান তিনি।

বিধ্বস্ত ইউনাইটেডের রক্ষণভাগ এরপর প্রায় চতুর্থ গোল হজম করেই ফেলেছিল। হ্যাটট্রিকের আশায় থাকা পাজের বাঁকানো শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন সেন্নে লামেন্স।

ম্যাচ শেষের ১৪ মিনিট আগে আসে কোমোর চতুর্থ গোল। অরক্ষিত অবস্থায় সামনে এগিয়ে এসে সতীর্থের চমৎকার ক্রস থেকে হেডে গোল করেন সেন্টার-ব্যাক রামন।

এই গোলের পর সফরকারী দলের সমর্থকদের অনেকে স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে যান। ফলে ম্যাচের যোগ করা সময়ে বদলি খেলোয়াড় জির্কজির করা গোলটি অনেকেই দেখতে পারেননি।

ইউনাইটেডের জন্য হতাশার সন্ধ্যায় সেটিই ছিল তাদের একমাত্র উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক মুহূর্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com