
ঢাকার ধামরাইয়ে জমির প্লটে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে কয়েকজনকে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। আহতদের একজনকে মুমূর্ষ অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ধামরাই থানাধীন কাকরান ব্রিজ সংলগ্ন একটি খালি জমির প্লটে।
এ ঘটনায় আশুলিয়ার নলাম এলাকার বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট প্লটের ম্যানেজার মো: শাহিন মিয়া (২৫) বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামি করে ধামরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,ঢাকা জেলার ধামরাইয়ের কাকরান এলাকার বাসিন্দা রুবেল (৩২), রফিকুল ইসলাম হৃদয় (৩৫), রনি (৩২), হাবিবুর (৩৯), উজ্জ্বল (৩৫), নজরুল (৩৬), আতিকুর (৩৩), আরিফুল (২৮), ইমামুল (২৭) এবং আবুল (৪৭)। এলাকায় উশৃঙ্খল, দাঙ্গাবাজ ও কিশোর গ্যাং পরিচালনার সাথে যুক্ত। শাহিন মিয়া নামে এক যুবক কাকরান জমির প্লটে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করার সময় বিবাদীরা সেখানে গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ এবং মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১২ টার সময় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনিভাবে প্লটে অনধিকার প্রবেশ করে। সেখানে পুনারায় চাঁদা দাবি করলে বাদী অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা লোহার রড দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে রফিকুল ইসলাম হৃদয় নামে একজন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাম-দা দিয়ে সজোরে কোপ মারলে বাদীর মাথার ডান পাশে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়।
শাহিনের চিৎকার শুনে তার সহযোগী আব্দুর রশিদ (৪২), সেলিম (৩৫) ও ওয়াসিম (৩৮) তাকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা লোহার রড, পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ধামরাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক শাহিনের মাথায় ৫টি সেলাই দেয়। অন্যদিকে, আব্দুর রশিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্লট মালিকের সাথে আলোচনা শেষে শাহিন মিয়া ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আসামীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ব্যাপারে ধামরাই থানায় গিয়ে ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণকালে অভিযুক্তরা তাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে এই সংবাদ কর্মীকে আহ্বান জানান। পরে আর ধামরাই থানায় তাদের দেখা যায়নি।