
পেটে মেদ মানেই বিব্রতকর পরিস্থিতি! শারীরিক পরিশ্রম না করা এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণেই পেটের ভেতরে এই চর্বির স্তর জমা হয়৷ নিয়মিত ঘণ্টা ধরে ব্যায়াম করার সময় হয়তো আপনার হাতে নেই; তবে দৈনন্দিন জীবনযাপনে ছোটখাটো কিছু পরিবর্তনই পেটের এই মেদ কমাতে সাহায্য করতে পারে৷
পারসোনা হেলথের প্রধান প্রশিক্ষক ফারজানা খানম কয়েকটি টিপস দিলেন এ ব্যাপারে-
১. নিয়মিত খাবার অল্প অল্প করে খেতে হবে৷ অর্থাৎ একবারে বেশি খাবার খাওয়া যাবে না৷ প্রতিদিনের খাবারের তালিকা ভাগ করে নিতে হবে পাঁচ বা ছয় ভাগে৷
২. খাওয়ার আগে পান করতে হবে দুই গ্লাস পানি। খাবার খাওয়ার সময় পানি খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়৷ পানি যদি খেতেই হয় তবে তা খাওয়ার আধঘণ্টা পরে খাওয়াই ভালো৷
৩. পেটে মেদ জমতে দিতে না চাইলে রাতের খাবার ঘুমানোর দুই ঘণ্টা আগে খেতে হবে৷ এ ছাড়াও যেদিন বেশি ক্যালরি বা চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া হবে, সেদিন এক কাপ হালকা গরম পানিতে লেবুপানি মিশিয়ে পান করে নিন৷
৪. এসব মেনে চলার পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটাও পেটের মধ্যে মেদ জমতে বাধা দেয়৷ সে জন্য সময় করে যে হাঁটতেই হবে, তা নয়৷ বরং অফিস থেকে ফেরার পথে ২০ মিনিটের মতো পথ জোরে জোরে হাঁটুন৷ সিঁড়ির ব্যবহারও পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করে৷ প্রতিদিন একবার পাঁচ বা ছয়তলা সিঁড়ি হেঁটেই উঠুন৷
৫. বাসাতে থাকলে মেঝেতে শুয়ে হালকা কিছু ব্যায়ামও করতে পারেন৷ যেমন: মেঝেতে সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন৷ দুই পায়ের মধ্যে একটু ফাঁকা রেখে হাঁটু পর্যন্ত ভেঙে নিন৷ হাত দুটো কানের পেছনে থাকবে৷ এবার নিশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে মাথাটা ওপরে ওঠান৷ ঘাড় সোজা থাকবে এবং চোখ দুটো থাকবে ওপরের দিকে৷ খেয়াল রাখবেন, ঘাড়ে যেন চাপ না পড়ে৷ পেটের মাংসপেশিতে ‘ভাইব্রেন্ট’ হচ্ছে কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখুন৷ এভাবে শ্বাস নিতে নিতে মাথাটা নামিয়ে ফেলুন৷ নামানোর সময় মাথা মেঝে থেকে ওপরে থাকবে৷ একইভাবে এক থেকে ১২ পর্যন্ত গুনতে গুনতে মাথা ওঠা-নামা করুন মনে রাখবেন, খুব দ্রুত গতিতে এটি করতে হবে৷ এভাবে প্রথম পর্যায়ে ১২ বার করলেই চলবে৷ আস্তে আস্তে অভ্যাস হয়ে গেলে বাড়িয়ে নিন এই ব্যায়ামের সময়৷ দেখবেন, ১৫ দিনেই কতটা ফিট হয়েছেন আপনি!