
কম্বোডিয়ায় কর্মসংস্থানের আশায় গিয়ে চীনা নিয়ন্ত্রিত সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে পাচারের শিকার হওয়া ঝিনাইদহের সোহাগ আহাম্মেদসহ চার বাংলাদেশির মরদেহ আগামী বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দেশে ফিরবে।
এদিন সকাল ১১টা ৫ মিনিটে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এমএইচ-১০২ ফ্লাইটে কম্বোডিয়া থেকে তিন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ফেরত আসা মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছেন ঝিনাইদহের সোহাগ আহাম্মেদ (২৩)। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় যান তিনি। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে একটি চীনা নিয়ন্ত্রিত সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে পাচার করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ওই স্ক্যাম কম্পাউন্ডে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে থাকার পর ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সোহাগের মৃত্যু হয়।
এদিকে চুয়াডাঙ্গার আসিফ খান (২৪) জনশক্তি ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়া যান। তবে দেশটিতে যাওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ২৮ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
একই ফ্লাইটে বগুড়ার জুয়েল হোসেন (৫৩) ও ফরিদপুরের মো. শাহনাজ তালুকদারের মরদেহও দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তারাও কম্বোডিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন।
তিন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে তাদের পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলেও সামনে এসেছে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা ও মানবপাচারের ভয়াবহ চিত্র। সরকারি প্রক্রিয়ায় ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পরও কিভাবে একজন কর্মী পাচারের শিকার হয়ে স্ক্যাম কম্পাউন্ডে পৌঁছালেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ করে সোহাগের ক্ষেত্রে বিদেশে যাওয়ার আগে সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলেও কিভাবে তিনি চীনা নিয়ন্ত্রিত সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে পাচারের শিকার হলেন, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিন বাংলাদেশির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী ছিল, তাদের সঙ্গে কম্বোডিয়ায় কী ঘটেছিল এবং বিদেশে যাওয়ার পর তারা কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন—এসব প্রশ্নেরও সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
বিদেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান।
কিন্তু প্রতারণা, মানবপাচার ও অবৈধ কর্মসংস্থানের ফাঁদে পড়ে অনেকের সেই স্বপ্ন পরিণত হয় ভয়াবহ অভিজ্ঞতায়। কম্বোডিয়ার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বাংলাদেশিদের পাচারের ঘটনাও সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
সোহাগ, আসিফ ও জুয়েলের মরদেহ দেশে ফেরার ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি। সরকারি ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে যাওয়া কর্মীরাও যাতে মানবপাচার বা প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরো জোরদারের দাবি উঠেছে।
বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন যেন কোনো পরিবারের কাছে শেষ পর্যন্ত প্রিয়জনের মৃত্যুসংবাদে পরিণত না হয়—তিন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরার ঘটনায় সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে।