মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
স্ক্যাম কম্পাউন্ডে পাচারের শিকার চার বাংলাদেশির মরদেহ ফিরবে বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে সামরিক সমাধান নেই, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বার্তা শ্রীলংকার ওয়ানডে দলে ফিরলেন আভিস্কা সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর : তথ্যমন্ত্রী চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী ঘোড়াঘাটে বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ পালিত মাসকলাইয়ে স্বপ্ন বুনছেন যমুনা চরের কৃষকরা বগুড়ার শেরপুরে সমবায় দল নেতা পলাশের মায়ের মৃত্যু,বিভিন্ন মহলের শোক মালয়েশিয়া থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে ফিরেছেন প্রায় দেড় হাজার অভিবাসী

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সেরা সুযোগ : মুশফিক

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : 12:00 am, বুধবার, ৪ মে, ২০১৬

অস্ট্রেলিয়ায় ইনজুরি আর সিনিয়র ক্রিকেটারদের অবসরের মিছিলে প্রত্যাশার মাত্রা এখন সীমানা ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাশের। সোমবার বাংলাদেশ সফরকে সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়ার দল ঘোষণার পর আশার বেলুন আরও বেশি করেই ফুলে উঠছে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের। একই সঙ্গে আশার বেলুন ফোলাচ্ছেন বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও। বাংলাদেশ সফরে অসিদের দল দেখে  তিনি মন্তব্য করলেন, ‘এই অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সেরা সুযোগ আমাদের সামনে।’

দুই তারকা পেসার মিচেল জনসন ও জস হ্যাজলউডকে ছাড়াই বাংলাদেশ সফরের দুই টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। স্টিভেন স্মিথের ডেপুটি হিসেবে এই সফরে আসছেন অ্যাডাম ভোজেস। দল দেখার পর দলটি অস্ট্রেলিয়া বলেই হয়ত সমীহ ঝরেছে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের কণ্ঠে। তবে একই সঙ্গে বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক জানিয়ে দিলেন, এটাই হয়ত অসিদের হারানোর সেরা সুযোগ।

আন্তজার্তিক ক্রিকেট থেকে মাইকেল ক্লার্ক অবসর নেওয়ার পর বাংলাদেশ সফর দিয়েই শুরু হচ্ছে অসি সাম্রাজ্যে স্মিথ যুগ। এর সঙ্গে রয়েছে অ্যাশেজ ধাক্কা সামলে ওঠার বিষয়টিও। তাই ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টেস্ট সিরিজে ভালো করার ব্যপারে দারুন আশাবাদি বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। মিরপুরে আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অনেক কথাই বলেছেন মুশফিক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলামেইলের স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট সুলতান মাহমুদ রিপন। পাঠকদের জন্য মুমিনুলের কথাগুলো প্রশ্নোত্তর আকারেই তুলে ধরা হলো …..

স্ট্রেলিয়ার দলটাকে তো দেখেছেন। কেমন মনে হলো আপনার কাছে? 
মুশফিক: আসলে এটা প্রত্যাশিতই ছিল। কারণ হ্যাজলউড আর জনসনকে তো আগেই বিশ্রাম দেয়া হয়েছিল। আমরা যেটা ধারণা করেছিলাম, তার মোটামুটি সবাই আছে ঘোষিত দলে। দুইজন নতুন ক্রিকেটার আছে। তাদের সম্পর্কে এখনো ওইরকম ধারণা নেই। এখনো অনেক সময় আছে আমাদের। তো আশা করছি এই সময়ে সব পুষিয়ে নিতে পারব। যদিও এটা একটা তরুণ দল; কিন্ত দলটা অস্ট্রেলিয়া। এটা ভুলে গেলে চলবে না। আশা করছি ভালো একটা সিরিজের জন্য আমরাও প্রস্তুত হচ্ছি।

অস্ট্রেলিয়া দলের, বিশেষ করে কারোর বিপক্ষে আপনাদের আলদা কোনো পরিকল্পনা আছে কি না? 
মুশফিক: স্মিথ তো অবশ্যই তাদের প্রধান খেলোয়াড়। আর ম্যাক্সওয়েল হয়তো ফিরে আসছে। সে শেষ টেস্ট খেলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। তার জন্য এটা একটা চ্যালেঞ্জিং সিরিজ হবে। চেষ্টা করব তাকে যত বেশি চাপে রাখা যায় এবং দ্রুত আউট করা যায়।

অস্ট্রেলিয়ার তরুন দলের বিপক্ষে আপনার দলের কেমন ফলাফলের আশা করছেন? 
মুশফিক:  কারো তরুণ দল আসলে আমাদের সাথে হারবে আসলে বিষয়টি তেমন নয়। দক্ষিণ আফ্রিকার কিন্ত সেরা খেলোয়াড়রা এসেছিল। তারপরও হেরেছে। এরপর ভারতের পুরো শক্তি এসেছিল। তবুও হেরেছে। প্রধান বিষয় হচ্ছে আমরা খুবই ভালো ক্রিকেট খেলেছিলাম এবং ধারাবাহিকভাবে পারফরম্যান্স করেছিলাম বলেই জয়গুলো এসেছিল। আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে, আমরা আসলে কি করতে পারি। কারণ শেষ ছয়-সাত মাস যেমন খেলেছি, সেদিকেই যেন ফোকাসটা ধরে রাখতে পারি। এখন ভালো খেলেও যদি ফল না আসে তাহলে তো কিছুই করার নেই। তাই আমাদের লক্ষ্য থাকবে ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলা। যেটা আমি বললাম, অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর এরচেয়ে বড় সুযোগ আর নেই। তো আমরা অবশ্যই চেষ্টো করব, দুটি টেস্ট ম্যাচে আমাদের শতভাগ বা তার চেয়ে বেশি কিছু দেয়ার।

জাতীয় লিগ শুরু হচ্ছে, ওদিকে ‘এ’ দল ভারতে গেছে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে এ বিষয়গুলোকে কিভাবে দেখছেন ? 
মুশফিক: আশা করব যারা ‘এ’ দলের সাথে ভারতে গিয়েছেন তারা ব্যাটিং, বোলিং সবদিক দিয়ে ভালো করবেন। দল হিসেবে যেন ভালো করে। আর আমরা যারা এখানে আছি, জাতীয় লিগে খেলাটা আমাদের জন্য একটা সুযোগ। আমরা অনুশীলন করছি আর একটা ম্যাচ খেললে ইনশাল্লাহ খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারব বলে আশা করি। সবাই যেন ভারত সফর এবং জাতীয় লিগ থেকে সর্বোচ্চটা নিতে পারে।

ডামি স্ট্যাম্পের ওপর উড়ে এসে একটি প্রজাপতি বসে পড়লো। সেটিকেই ধরার চেষ্টা করছেন কোচ হাথুরুসিংহে

জাতীয় দলের প্রধান কোচ হাতুরুসিংহের অনেক কথা ফলে যায়। এমনকি কোচের অনেক কিছু আপানারা বাস্তবায়ন করেছেন। কয়েকদিন আগে কোচ বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এবার নতুন কিছু করতে চায় বাংলাদেশ দল। এবারও কি তেমনই বড় কিছু করার পরিকল্পনা আছে আপনাদের?
মুশফি: এটা তো অবশ্যই ভালো ব্যাপার যে তার কথা লেগে যায়।  তার কথা যদি এবারও লেগে যায়, তাহলে তো খুবই ভালো হবে। আমার মনে হয়, তিনি সাহসটা এখান থেকেই পাচ্ছেন যে, তার তত্ত্বাবধানে যে খেলোয়াড় আছে তারা সবাই ভালো খেলছে। শুধু কোচকে নয়, আমি বলব পুরো বাংলাদেশকেই এটা সাহস যোগাচ্ছে। সবাই এখন আশা করে যারা আমাদের দেশে আসবে, তাদের আমরা হারাব। আমাদেরও সেটা মাথায় আছে। তবে এটা খুব সহজ হবে না। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব। আমি যেটা বলেছি, বাংলাদেশ টেস্টে উন্নতি করছে। আমরা যদি এই দুটি টেস্টে ভালো খেলি বছরটাও বেশ ভালোভাবে শেষ হবে। অস্ট্রেলিয়ার সাথে ভালো একটা সিরিজ খেলার এটা বড় সুযোগ।

হ্যাজলউড ও জনসন ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার পেস অ্যাটককে কি দূর্বল বলে মনে করছেন?
মুশফিক: আসলে দুর্বল নয়। আপনি যদি লায়নের রেকর্ড খেয়াল করে দেখেন, অন্য যারা আছে তাদের মধ্যে সে অনেক ভালোমানের বোলার। আর একজন বাঁহাতি অনেক কার্যকর। আমাদের পরিকল্পনা আছে। আশা করব সেটা যেন বাস্তবায়ন করতে পারি। আমরা যেমনটা ইমরান তাহিরের বিপক্ষে করেছি। লায়নকে যত কম উইকেট দিব এটা তাদের জন্য ততো চাপ তৈরী করবে। তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশেষ করে ব্যাটিং বিভাগে সামর্থ্য অনুসারে আমরা তাদের চাপে ফেলতে পারব।

অস্ট্রেলিয়া সব সময়ই উপমাহাদেশের স্পিন-সহায়ক উইকেটে এসে ভুগেছে। আপনার কি কোনো পরামর্শ থাকবে টার্নিং উইকেট বানানোর জন্য? 
মুশফিক: পরিকল্পনা তো একটা আছেই; কিন্তু আমি এখনই সেটা বলতে চাই না। উইকেট থেকে সাহায্য নিয়ে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে, আমরা এতোদিনে আরো ওপরে যেতে পারতাম। আমাদের ভালো খেলতে হবে। ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে হবে। টার্নিং হলে ওদেরও বোলার আছে এটাও কিন্তু আমাদের মাথায় রাখতে হবে। তাই আমরা এমন একটা উইকেট যেন বানাতে পারি যেখানে ৪০০ এর মতো রান আবার ২০ উইকেটও নিতে পারি।

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এবার বাংলাদেশ দলের আক্রমণাত্মক ক্রিকেট দেখতে পাওয়া যাবে কি না? 
মুশফিক: এটা আসলে সময়ই বলে দেবে। তবে ভালো খেলার জন্য এবং পাঁচটা দিন এগিয়ে থাকার জন্য যা যা করা দরকার তা তো অবশ্যই আমাদের করতে হবে।

২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ফতুল্লা টেস্টে জয়ের মতো অবস্থা তৈরী করেও শেষ পর্যন্ত হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার সেই স্মৃতি আপনাদের মনকে নিশ্চয় নাড়া দিচ্ছে?
মুশফিক: আমার তো মনে হয়, স্মৃতি কিংবা আবেগের কিছু নাই এখানে। শেষ ২০০৬-এ যে দলটা এসেছিল, আমার মনেহয় অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের অন্যতম সেরা দল ছিল তখন। তাদের সঙ্গেই যদি বাংলাদেশ এত কাছে গিয়ে হারে। তাই বলব আমরা যে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলছি, নিজেদের শক্তি অনুয়ায়ী যদি খেলতে পারি তাহালে এবার জয় অসম্ভব তো দেখছি না। বাংলাদেশ এমন সময়ে এসছে, হয়তো টেস্টটা একটু ভিন্ন ওয়ানডের তুলনায়; কিন্তু এ বছর যেভাবে খেলেছি যে কোনো দলের বিপক্ষে আমরা ভালো খেলতে পারব ইনশাল্লাহ।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নিশ্চয় পেসারদের ওপর আপনার আস্থা আছে? 
মুশফিক: যারা দলে আছে এরা সবাই সুস্থ। এটা বাংলাদেশ দলের জন্য ভালো। এ বছর পেস বোলাররা অনেক ম্যাচ জিতিয়েছে। এমনকি টেস্টেও তারা ভালো বোলিং করেছে। তাই এটা যে কোনো দলের জন্য বাড়তি পাওয়া। আশা করছি পেস এবং স্পিন মিলিয়ে একইসঙ্গে ব্যাটিংটার সম্বনয় হলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কঠিন একটা লড়াই হবে।

শেষের দিকের ব্যাটসম্যানরা অনেক বেশি ব্যাটিং অনুশীলন করছে। এটা কি অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাড়তি সুবিধা দেবে?
মুশফিক: এটা সময়ই বলে দেবে। অন্ততঃ তারা তো একটা কাজ শুরু করেছে। আশা করব, অস্ট্রেলিয়া সিরিজে যদি এর প্রভাব নাও দেখা যায় যেন ভবিষ্যতে দেখতে পাই। অনেক কষ্ট করছে তো এই ফলটা যদি তারা দিতে পারে, তাহলে দেখবেন, ম্যাচের পরিস্থিতিও পাল্টে গেছে। যেটা কি না জিম্বাবুয়ের সঙ্গে তাইজুল করেছিল। ওটা না করতে পারলে হয়তো ফলটা অন্যদিকেও যেতে পারত। টেস্টে আপনি যতই বোলার হন না কেন ব্যাটসম্যান হিসেবেও মাঝে-মধ্যে দায়িত্ব নিতে হয়। তারা শুরু করেছে আশা করছি এটার ফল তারা পাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com