
নাম কি? মো: সুমন। পদবী? ই-সব নাই। কি করেন? টোকাই। থাকেন কোথায়? ঘর নাই স্টেডিয়ামেই ঘুমাই। কথাগুলো বলছিলেন স্টেডিয়াম পাড়া টোকাই দলের সদস্য মো: সুমন। ঢাকার রাস্তার রাজা তিনি! মানুষের ফেলে দেয়া জিনিস সংগ্রহ করেন এবং তা বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। ৪র্থ টোকাই কাবাডি টুর্নামেন্টে তিনিও অংশ নিয়েছেন স্টেডিয়াম পাড়া টোকাই দলের একজন সদস্য হিসেবে।
স্টেডিয়াম পাড়া টোকাই দলের নির্ভর যোগ্য সদস্য তিনি। কাবাডি ম্যাচগুলোতে খেলছেন বেশ ভালো। টোকাই কাবাডি টুর্নামেন্টে সুমনের মতো আরো অনেকেই খেলছেন। কেউ মাছ বিক্রি করেন কেউবা বিক্রি করেন ফুল আবার কেউ পথে পথে ঘুরে বেড়ান অন্য দশ জন পথ শিশুদের মতোই। এই ক্ষুদে খেলোয়াড়দের সম্পর্কে টোকাই কাবাডি টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও কাবাডি ফেডারেশনের জয়েন্ট সেক্রেটারী আমজাদ হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘আসলে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আমরা চেষ্টা করছি নতুন খেলোয়াড় তৈরি করতে। সেই সাথে এই সকল টোকাই শিশুদের মানুষিক বিকাশে সাহায্য করতে। কিন্তু সীমিত বাজেটের মধ্যেই যতটুকু পারছি কাজ করে যাচ্ছি।’
তিনি আরো যোগ করেন, লালবাগ, আগারগাঁও, গুলিস্তান আর স্টেডিয়াম এলাকা থেকে ঘুরে ঘুরে এদের সংগ্রহ করেছি আমরা। এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো এই টুর্নামেন্টটি আয়োজন করেছি আমরা। গত ৯ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। বেশ ছোট পরিসর থেকে আমরা আয়োজনা করেছি। ভবিষ্যতে অবশ্যই আমরা এর পরিধি আরেকটু বাড়াতে চাই। যাতে এখান থেকেই জাতীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় তৈরি করতে পারি।’
সুমনের বাড়ি নোয়াখালী, তিনি ভাইয়ের সংসারের হাল তিনিই ধরেছেন। আর তাই বেছে নিয়েছেন টোইয়ের মতো একটি কঠিন পেশা। এই টুর্নামেন্টে খেলতে পেরে বেশ উচ্ছাসিত সুমন। ভবিষ্যতে কাবাডি নিয়ে কোন স্বপ্ন আছে কিনা জানতে চাইতেই বলল, ‘কাবাডি খেললে কাম করবে কে? সারাদিন কাম করি, অল্প কয়টা টাকা পাই তাতেই প্যাটে দানা পানি পড়ে। তয় যদি ফেডারেশন থাইকা আমাগো থাকন-খাওনের ব্যবস্থা করে তাইলে তো পারি। খ্যালতে (কাবাডি খেলতে) তো আমার ভালোই লাগে।’