
পায়ের পাতায় সমস্যাটা ছোট বেলা থেকেই। স্বাভাবিকভাবে হাঁটতেও পারতেন না। কিন্তু, এসব ভেবে বসে থাকেননি। ছুটে গিয়েছেন খেলার মাঠে। যদিও তার দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে সবাই। তাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিলেও খেলায় তাকে নেয়া হতো না। খেলা চলে এমন সব জায়গাতেই যেতেন, ব্যাগ টানতেন। দলের আরো কিছু কাজও করে দিতেন। কিন্তু মাঠে নয়, দর্শক হয়ে খেলা দেখতে হতো তাকে। বলা হচ্ছে বাংলাদেশ শারিরিক প্রতিবন্ধী দলের অধিনায়ক আলম খানের কথা। এমন আরো বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন জীবন যুদ্ধ জয় করার পর ক্রিকেট যুদ্ধে নাম লেখানো শারিরিক প্রতিবন্ধী এই ক্রিকেটার-
প্রশ্ন: বৃষ্টির জন্য খেলা হলো না। শুরুতেই বাঁধা। কি বলবেন?
আলম খান: খারাপ লেগেছে যে এতো আয়োজনের পরও খেলা হলো না। আমাদের জন্য এটা দুর্ভাগ্য। আবহাওয়ার ওপর তো কারো হাত নেই।
প্রশ্ন: এই বৃষ্টির মধ্যেও এত দর্শক। দেখে কেমন লাগছে?
আলম খান: বাংলাদেশ ক্রিকেটপ্রেমী দেশ। ক্রিকেটকে ভালবাসে তারা। আসলে আমরা যে কি খেলি সেটা তারা বোঝেনি,আমরা যে প্রতিবন্ধী এটা ভাবেনি। যারা ক্রিকেটকে ভালবাসে তারা ক্রিকেট খেলা দেখতে এসেছে। যারা এসেছে তাদেরকে ধন্যবাদ।
প্রশ্ন: আপনাদের জন্য এত আয়োজন দেখে কেমন লাগছে?
আলম খান: খুবই আনন্দিত। যদি খেলাটা হতো আরো ভালো হতো।
প্রশ্ন: ক্রিকেট খেলার পেছনে আপনার পরিবারের অবদান কতটুকু। কেমন সমর্থন দেয়?
আলম খান: পরিবার অবশ্য তেমন সমর্থন দেয়নি প্রথম দিকে। তবে এখন ভালো সমর্থন দিচ্ছে।
প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলা হচ্ছে এটা দেখেই কি আপনার পরিবার এখন সমর্থন দিচ্ছে? কি মনেহয়?
আলম খান: আগে থেকেই চেষ্টা করেছি খেলার জন্য। কিন্তু পদে পদে বাঁধার কারণে পরিবারও অনেক পিছিয়ে ছিল। এখন টিভিতে খেলা দেখার কারণে একটু সমর্থন দিচ্ছে।
প্রশ্ন: খেলতে গিয়ে কতটা বাঁধার সম্মুখীন হন। বিশেষ কোনো বাঁধার কথা বলবেন?
আলম খান: আসলে ছোটবেলায় যখন খেলতে যেতাম আমার সমস্যার কারণে খেলায় নিত না। তাদের সাথে অনেক জায়গায় যেতাম। কিন্তু বসিয়ে রাখত। ব্যাগ টানতাম। তারপরও খেলা হতো না। স্বপ্ন ছিল চেষ্টা করব, পরিশ্রম করব দেখি কতদূর আগাতে পারি।
প্রশ্ন: মূলত আপনার সমস্যা কি?
আলম খান: আমার আসলে পায়ে সমস্যা। আমার দু পায়ের পাতা বাঁকানো।
প্রশ্ন: টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আসা অন্য দলের খেলোয়াড়দের সাথে কথা হয়েছে?
আলম খান: তেমন একটা কথা হয় নাই। ইস্ট বেঙ্গল একটা দল এসেছিল কিছুদিন আগে, ওদের সাথে খেলেছিলাম।
প্রশ্ন: খেলার সময় কোন কোন প্রতিকূলতার সামনে পড়তে হয় আপনাদের?
আলম খান: অবশ্যই প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়। সুস্থরা যেভাবে খেলে আসরা তো সেভাবে খেলতে পারি না। আমাদের কিছুটা হলেও সমস্যা হয়। তারপরও কিছু করার নাই। খেলাটাকে ভালোবাসি।
প্রশ্ন: আপনারা অনুশীলন করেন কোথায়?
আলম খান: আইসিআরসি একটি প্লাটফর্ম দিয়েছে আমাদের। একটা পেসার হান্ট করে দল বানানোর পর তিন মাস বিকেএসপিতে আমার অনুশীলন করেছি। এছাড়া যারা যে জায়গায় থাকে আলাদাভাবে তারা সেখানে অনুশীলন চালাচ্ছে।
প্রশ্ন: এই টুর্নামেন্ট শেষ হলে আপনাদের কোনো ম্যাচ নেই। তখন আপনাদের অনুশীলন কোথায় হবে?
আলম খান: যার যার জেলায় গিয়ে অনুশীলন করবে। আর আইসিআরসি ও বিসিবি চিন্তা ভাবনা করছে পরবর্তীতে কি করা যায়।
প্রশ্ন: আপনারা এই সবকিছুর জন্য রেড ক্রসের দিকে তাকিয়ে?
আলম খান: রেড ক্রস আছে বিসিবি আছে। আর যেহেতু আমরা টুর্নামেন্ট খেলছি দেখি ভাল একটা ফলাফল করতে পারলে আমরা অবশ্যই কিছু দাবি করতে পারব।
প্রশ্ন: নিয়মিত খেলার মধ্যে থাকতে চান। এমন কোনো কথা বিসিবিকে বলেছেন?
আলম খান: না, এখনও তো আমরা বলিনি। টুর্নামেন্টটা যাক তার পর দেখা যাবে কি করে।
প্রশ্ন: এমন শারিরিক অবস্থায় খেলাটা কতটা চ্যালেজ্ঞিং মনে হয়?
আলম খান: অবশ্যই চ্যালেঞ্জের। তবে চ্যালেঞ্জর বাঁধা মোকাবিলা করেই আমরা সবাই এখানে এসেছি।
প্রশ্ন: এই টুর্নমেন্টে আপনাদের লক্ষ্য কি?
আলম খান : আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাওয়া।
প্রশ্ন: কতটুকু বিকলাঙ্গ থাকলে এই টুর্নামেন্টে খেলা যাবে এ বিষয়ে আপনাদের কিছু জানানো হয়েছে?
আলম খান : না এমন কিছু আমাদের জানানো হয় নাই। কতটুকু থাকলে খেলতে পারবে বা কতটুকু থাকলে খেলতে পারবে না আসলে আমি জানি না। আমরা কোনো নিদের্শনা পাইনি।
প্রশ্ন: আপনাদের দলের ক্রিকেটারদের শারিরিক সমস্যাগুলো কেমন? অন্য দলের তুলনায় আপনাদের সমস্যা বেশি না কম?
আলম খান: অন্য দলের তুলনায় আমাদের দলের সমস্যা অবশ্যই বেশি। অন্যান্য দলে বেশিভাগ পায়েরই সমস্যা। আমাদের দলে পায়ের, হাতের দুটোতেই সমস্যা আছে।
প্রশ্ন: অন্যান্য দলের খোঁজ নিয়েছেন তাদের কেমন সমস্যা? পরিকল্পনা করেছেন?
আলম খান: পরিকল্পনা তো অবশ্যই আছে। তবে কার কি সমস্যা এসব নিয়ে ভাবছি না। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ জেতার চিন্তা করছি। আমরা ওইভাবেই আগাচ্ছি। অন্য দলকে নিয়ে অত বেশি মাথা ব্যথা নেই।