শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বালিয়াকান্দিতে একদিনে কুকুর- বিড়ালের কামড়ে ৪০জন আক্রান্ত দৌলতদিয়া পদ্মা নদীতে যৌথ অৃভিযানে ৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল উদ্ধার রাজবাড়ীতে চন্দনা নদীর কচুরিপানা পরিস্কার করলেন বিএনপি নেতা আশিক ঘোড়াঘাটে বৃষ্টির পানিতে প্রাণ ফিরেছে আমনে, ভালো ফলনের স্বপ্ন কৃষকের বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অগ্রগতি : মাহদী আমিন জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকব: জামায়াত আমির বিরোধী দলের লংমার্চে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার লোকসান হবে: রাশেদ খান নেপালে বন্যায় নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেডিওতে সাক্ষাৎকারে যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ায় সাংবাদিক আটক

শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অগ্রগতি : মাহদী আমিন

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : 6:03 pm, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শ্রমজীবী মানুষকে জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তাদের টেকসই নিরাপত্তা, মর্যাদা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

আজ দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সম্মেলন ও সাধারণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘মর্যাদা, অধিকার, ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতে এগিয়ে যাবার প্রত্যয়’ শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মাহ্দী আমিন বলেন, শ্রমিক শুধু শ্রম দেন না, তারাই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন। শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করা মানে দেশের মর্যাদা নিশ্চিত করা। ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য। নিরাপদ কর্মপরিবেশ প্রতিটি শ্রমিকের মৌলিক অধিকার।

তিনি বলেন, শ্রমিকের কল্যাণ মানে শুধু একজন কর্মীর কল্যাণ নয়, একটি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দক্ষ শ্রমিক দেশের অন্যতম বড় উৎপাদনশীল সম্পদ। শ্রমিকের দক্ষতা বাড়লে শিল্পের সক্ষমতা ও দেশের প্রতিযোগিতার শক্তি বাড়ে। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে শ্রমিকের দক্ষতাকেও এগিয়ে নিতে হবে।

আগামী প্রজন্মের শ্রমশক্তিকে নতুন শিল্প ও নতুন কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে শ্রমিকের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় বিনিয়োগের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র।

শিল্পখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক ও অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিল্পের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মালিক ও শ্রমিককে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক হয়ে কাজ করতে হবে। সরকারের ‘ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ ব্যবস্থা’র (ট্রাইপারটাইট কনসালটেশন)-মাধ্যমেই শিল্পখাতকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যকার সম্পর্ক কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এটি হতে হবে আস্থা, পারস্পরিক নির্ভরতা ও গভীর ভালোবাসার। একটি টেকসই শিল্পব্যবস্থা গড়ে তুলতে উভয় পক্ষের মধ্যে নিয়মিত কার্যকর যোগাযোগ, দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, কর্মক্ষেত্রে ন্যায়বিচার থাকলে আস্থা তৈরি হয়, আর আস্থা থাকলে উৎপাদন বাড়ে। নারী শ্রমিকের নিরাপত্তা ও সমান সুযোগের নিশ্চয়তা অর্থনীতির সক্ষমতাও বাড়ায়। কর্মসংস্থানের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই কর্মসংস্থানের মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, শ্রমিকের সন্তান যেন আরো ভালো শিক্ষা ও বড় স্বপ্নের সুযোগ পায়, এটিও শ্রমিক কল্যাণের অংশ। আজকের শ্রমশক্তিকে আগামী দিনের পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করাই হবে আমাদের অন্যতম বড় বিনিয়োগ। শ্রমের শক্তি, শিল্পের সক্ষমতা এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব— এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মাহ্দী আমিন বলেন, দক্ষ শ্রমিকই দেশের প্রধান উৎপাদনশীল সম্পদ। প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রমিকের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে হবে, যাতে শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার শক্তি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন নতুন শিল্প ও মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এখন থেকেই আধুনিক প্রশিক্ষণে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি কর্মসংস্থানের পরিমাণের পাশাপাশি কাজের মান (ডিসেন্ট জব) ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেন।

দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অর্জনে শ্রমিকের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে মাহ্দী আমিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষ বারবার রাজপথে নেমে এসেছেন। নিজেদের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণ, জনগণের অধিকার এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তাদের এই সাহসী অবস্থান জাতীয় ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়।

ইন্ডাস্ট্রি ও কর্মসংস্থানের নিত্যনতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন নতুন শিল্প এবং আধুনিক কর্মসংস্থানের উপযোগী করে আমাদের আগামী প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি জনশক্তির বিপুল সম্ভাবনা ও চাহিদার কথা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সুসংহত মেলবন্ধন ঘটলে এ দেশের শ্রমিকদের অপার সম্ভাবনা সারা বিশ্বে আরো সমাদৃত হবে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় শ্রমজীবী মানুষের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে শিল্পখাতের বাস্তবতার নিরিখে টেকসই সমাধান খোঁজার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে এমন একটি রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শ্রমিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশ একই স্রোতধারায় প্রবাহিত হবে।

মাহ্দী আমিন বলেন, একটি প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দেশের বিপুলসংখ্যক নারী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে কেবল কর্মসংস্থানের পরিমাণের দিকে নজর দিলেই চলবে না; বরং কাজের গুণগত মান (ডিসেন্ট জব), ন্যায্য মজুরি এবং পরিশ্রমে শ্রমিকের সম্মান নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম বড় অগ্রাধিকার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, শ্রমিকের শ্রমশক্তি, শিল্পের গতিশীল সক্ষমতা এবং রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতার সমন্বয়েই একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। শ্রমিক সমাজের এই চাওয়া-পাওয়াকে ধারণ করে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) তিন দশকের পথচলা ও শ্রম অধিকার রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির অবদানের প্রশংসা করেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠা, শ্রমিকদের স্বাধীনতা ও সুরক্ষায় বিলস দীর্ঘদিন ধরে একটি বিস্তৃত কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করে আসছে, যেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় শ্রম অধিকার কর্মী ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা ধারাবাহিকভাবে ভূমিকা রাখছেন।

শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মাহ্দী আমিন জানান, শ্রমখাতের টেকসই উন্নয়নে সরকার, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার, সিভিল সোসাইটি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

শ্রমজীবী পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তায় গৃহীত ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইতোমধ্যে শ্রমজীবী নারীদের মাঝেও পৌঁছানো শুরু হয়েছে। প্রতিটি মা ও বোনের সামাজিক মর্যাদা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্মেলন ও সাধারণ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষিবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিলসের মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, জাপান ইন্টারন্যাশনাল লেবার ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসুনোবু আইহারা, বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর জ্যানা ভ্যান ডার লিনডেন, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, বিলসের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়াসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com