মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন

উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত চরাঞ্চল, কাজিপুরে তিন সেতুর অভাবে ধুঁকছে লাখো মানুষ

টি এম কামাল
  • আপডেট সময় : 5:16 pm, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
 স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে উন্নয়নের কোনো হাওয়া লাগেনি। শুধুমাত্র তিনটি সেতুর অভাবে চরগিরিশ, মনসুর নগর সহ চরাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে আজও চরমভাবে বঞ্চিত। বছরের পর বছর ধরে কেবল আশ্বাস মিললেও বাস্তবে ভেটুয়া নৌকা ঘাটে, রাজনাথপুর গ্ৰামের পশ্চিম পার্শ্বে (জোড়া ব্রিজ) ও মনসুর নগর ইউনিয়ন পরিষদের পূর্বপাশে সেতু নির্মাণ না হওয়ায় চরম অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে এই পূর্বসিমান্ত জনপদ।
কাজিপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে যমুনা নদীবেষ্টিত এই দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যাতায়াতের মাধ্যম অত্যন্ত মান্ধাতার আমলের। শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হাঁটা পথ, কিংবা ঘোড়া গাড়িই তাদের একমাত্র ভরসা। আর বর্ষাকালে পুরো এলাকা পানিবন্দি হয়ে পড়লে নৌকার ওপর নির্ভর করা ছাড়া কোনো বিকল্প উপায় থাকে না। যোগাযোগ ব্যবস্থার এই বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের সময় আধুনিকায়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট পেরিয়ে গেলে কেউ আর কথা রাখেন না। যাতায়াত সমস্যার কারণে বর্ষায় প্রায় ছয় মাস এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়, ফলে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মাঝপথেই ঝরে পড়ে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় অনেক শিক্ষক ও চিকিৎসক এখানে চাকরি করতে অনীহা প্রকাশ করেন। সংকটাপন্ন রোগীদের উপজেলা সদর হাসপাতালে নিতে গিয়ে পথেই বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। পাশাপাশি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে গিয়ে অতিরিক্ত পরিবহন খরচের শিকার হয়ে ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনের একটি আশার আলো দেখা গেছে উপজেলা প্রকৌশল দফতরের উদ্যোগে। কাজিপুর উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভেটুয়া নৌকা ঘাটে ও রাজনাথপুর গ্ৰামের পশ্চিম পার্শ্বে (জোড়া ব্রিজ) দুটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজাও আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি সেতু নির্মাণ ও নদীভাঙন রোধের মতো এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার জমা দিয়েছেন। প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়ে সেতু দুটি নির্মিত হলে সীমান্তবর্তী এই দুই ইউনিয়নের আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। তবে যুগ যুগ ধরে কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি শুনে আসা চরাঞ্চলের এই লাখো মানুষ এখন আর কোনো মৌখিক আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারছেন না, তারা এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই তিনটি সেতুর দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখতে চান। #

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com