
আয়নায় তাকিয়ে মুখের ছোট ছোট বাদামি বা কালচে দাগ দেখে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। অনেকে এগুলো ঢাকতে ভারি মেকআপ বা বিভিন্ন ধরনের স্কিন ব্রাইটেনিং ক্রিম ব্যবহার করেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই দাগ, যা ফ্রেকলস বা মেছতা নামে পরিচিত, কোনো রোগ নয় এবং এটি সৌন্দর্যের অন্তরায়ও নয়।
আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজির তথ্য অনুযায়ী, ফ্রেকলসের চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাম এপেলাইডস। ত্বকে থাকা মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করতে কাজ করে। অতিরিক্ত সূর্যালোকের কারণে নির্দিষ্ট স্থানে মেলানিন বেশি জমে গেলে ছোট ছোট বাদামি দাগ তৈরি হয়, যা ফ্রেকলস নামে পরিচিত। সাধারণত গ্রীষ্মকালে এগুলো গাঢ় হয় এবং শীতকালে কিছুটা ফিকে হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রেকলস হওয়ার অন্যতম কারণ দীর্ঘ সময় রোদে থাকা। এছাড়া বংশগত বৈশিষ্ট্য, বিশেষ করে এমসিওয়ানআর জিনের প্রভাব, ফর্সা ও সংবেদনশীল ত্বক, হরমোনের পরিবর্তন এবং অপর্যাপ্ত ত্বক পরিচর্যাও এর জন্য দায়ী হতে পারে।
ফ্রেকলস পুরোপুরি দূর করার কোনো নিশ্চিত ঘরোয়া উপায় নেই। তবে নতুন দাগ পড়া কমানো এবং বিদ্যমান দাগ গাঢ় হওয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ জন্য প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার, তীব্র রোদ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান, ভিটামিন সি ও ই সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, টুপি ও সানগ্লাস ব্যবহার এবং নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, ফ্রেকলস যদি হঠাৎ আকার, রঙ বা সংখ্যায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখায়, তাহলে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ সব ধরনের কালো দাগ ফ্রেকলস নয়; কিছু ক্ষেত্রে তা অন্য ত্বকের সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অনেক মডেল, অভিনেতা ও তারকা নিজের ফ্রেকলসকে লুকানোর বদলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করছেন। তাই ফ্রেকলসকে সৌন্দর্যের ত্রুটি নয়, বরং ত্বকের একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হিসেবেই দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।