রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জলাভূমি বর্তমানে অবহেলা ও অযত্নে মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের কাছে ‘বহরপুর পুরাতন গাঙ’ নামে পরিচিত এই জলাশয় একসময় ছিল মাছ, জীববৈচিত্র্য ও কৃষির অন্যতম নির্ভরতার উৎস। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এটি কচুরিপানা ও পলি জমে প্রায় ভরাট হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাইলের পর মাইল এলাকা জুড়ে কচুরিপানার ঘন স্তর জমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় জেলেরা হারাচ্ছেন তাদের জীবিকা, অন্যদিকে কৃষকরাও পড়ছেন সেচ সংকটে। অথচ যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এই বিশাল জলাভূমি হতে পারে এলাকার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিকল্পিতভাবে পুরাতন গাঙটি পুনঃখননের উদ্যোগ নিলে এবং স্বচ্ছ টেন্ডারের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনলে প্রতি বছর সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারবে। একই সঙ্গে অবৈধ দখল ও ভূমিদস্যুদের হাত থেকেও রক্ষা পাবে এই সরকারি সম্পদ।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক শত একর জলাভূমিকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের আওতায় আনা গেলে বছরে কোটি কোটি টাকার মাছ উৎপাদন সম্ভব। এতে শুধু রাজবাড়ী নয়, আশপাশের জেলার মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এই জলাশয়। পাশাপাশি সৃষ্টি হবে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ।
এছাড়া পুরাতন গাঙটি পুনঃখনন করা হলে বর্ষা মৌসুমে পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং শুষ্ক মৌসুমে এটি সেচের পানির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারবে। এতে পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত সংস্কার ও কার্যকর তদারকির মাধ্যমে ‘বহরপুর পুরাতন গাঙ’কে পুনরায় জীবন্ত করে তোলা সম্ভব। তাদের মতে, এটি শুধু একটি জলাশয় নয়—সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটি বালিয়াকান্দির অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।