বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন

যমুনা চরে যাতায়াতকারীরা চরম ভোগান্তিতে

টি এম কামাল :
  • আপডেট সময় : 6:30 pm, বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

সিরাজগঞ্জের যমুনা চরে যাত্রী পরিবহনে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রাখছে মোটর বাইক। কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালি, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার প্রায় ২৬ টি ইউনিয়নে ৫ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। আর এই বিপুল পরিমাণ মানুষের শুষ্ক মৌসুমে যোগাযোগের মাধ্যই মোটর বাইক ও ঘোড়ার গাড়ি। পণ্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ি ও যাত্রী পরিবহনে মোটর বাইক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

বর্তমানে জ্বালালি সংকটে চরের মোটর বাইক চালকেরা পরেছে বেকায়দায়। জানা যায় চর এলাকায় চালিত অধিকাংশ মোটর বাইকের পরিপূর্ণ কাগজ পত্র না থাকায় এই সব চালকেরা ফুয়েল কার্ড করতে পাছেন না। যে কারণে জ্বালালি তেল সংগ্রহ করতে না পারায় বেশির ভাগ চালক মোটরবাইক চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। চালকরা জানান, ফুয়েল কার্ড না থাকায় পাম্পগুলো থেকে তেল কিনতে পারছে না আবার বাইরে থেকে পেট্রল কিনতে গেলে ৩শ সাড়ে ৩শ টাকা লিটার কিনতে হয়। এতে করে ভাড়া বেশি চাইলে যাত্রীরা ভাড়া বেশি দিতে রাজি না যে কারণে চরে বেশির ভাগই বাইক বন্ধ রয়েছে। ফলে চরের যাত্রীদের জীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। জানা গেছে ইতিমধ্যেই অনেকে বাইক চালানো বাদ দিয়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছড়া ইউনিয়নের হাড়িভাঙ্গা চরের বাইক চালক হযরত আলী জানান, আগে বরইতলা ঘাট থেকে কাটেঙ্গা চরে যাত্রী প্রতি ১শ টাকা, ঘটিয়া চরে ১৫০ টাকা, আপনাদীঘি চরে ২০০ টাকা, হাড়িভাঙ্গা চরের ১০০ টাকা রনয়া হতো। বর্তমানে বাড়তি দামে তেল কিনে এই ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন পোষাচ্ছে না। যে কারণে বেশির ভাগ চালক এই পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

এই এলাকার অপর চালক মেহেদী হাসান জানান, আমাদের চরের শত শত চালক মোটর বাইকে যাত্রী পরিহন করে জীবিকা নির্বাহ করে। এই সব গাড়ির ক্রয়ের বৈধ কাগজ থাকলেও বেশিরভাগ চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় ফুয়েল কার্ড করতে পারছে না। ফলে তেলের অভাবে গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। তাছাড়া বাইরে থেকে উচ্চ মুল্যে তেল কিনে পোষাচ্ছে না। তাই তিনি এই পেশা ছেড়ে কৃষি শ্রমিকের কাজ করছেন বলে জানান। তার মত অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলার যমুনার চরে নাটুয়ারপাড়া ও তেকানী নৌকা ঘাটে অবস্থানকারী চরের যাত্রী পলাশ, আমিনুল, রেজাউল, শুভ বলেন, ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে তেল দেয়ার পর থেকেই আমাদের চরের যাত্রীদের দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। চরের অধিকাংশ গাড়িরই পরিপুর্ন কাগজপত্র না থাকায় এরা ফুয়েল কার্ড করতে পারে নাই। আবার বাইরে থেকে উচ্চ মুল্যে তেল কিনে চালালে ভাড়াও অনেক বেশি। ফলে যাত্রীদের ভাড়া সাধ্যের বাইরে চলে গেছে এতে যাত্রীরা পরেছে চরম দুর্ভোগে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com