সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা জুড়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অব্যাহত লোডশেডিং ও গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র তাপদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। দিন-রাত সমানতালে চলা এই চরম সংকটে কাজিপুরের সাধারণ মানুষের ধৈর্যচ্যুতি ঘটছে।
কাজিপুর পৌর শহরের প্রধান এলাকা থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল, সর্বত্রই এখন চলছে ঘন ঘন বিদ্যুতের আসা যাওয়ার খেলা! অনেক এলাকায় প্রতি ঘন্টায় পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করায় ঘরে অবস্থান করাও দায় হয়ে পড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুধু পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র নয়, উপজেলার অবস্থা ও তথৈবচ। কোনো কোনো এলাকায় টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকা এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ একবার গেলে আসার কোনো নির্দিষ্ট সময় থাকে না। ঘন ঘন ভোল্টেজ ওঠানামার ফলে ফ্রিজ, টেলিভিশন, ফ্যান, এসি ও মোটরের মতো মূল্যবান ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন শিশু ও বৃদ্ধরা এই প্রচন্ড গরমে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ব্যাহত হচ্ছে জরুরি অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা সেবাও।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চাহিদার তুলনায় গ্রিড থেকে সরবরাহের পরিমাণ কম থাকায় তারা নিরুপায়। যান্ত্রিক ত্রুটি ও লাইন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অজুহাতে ও মাঝেমধ্যে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।কাজিপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দাবি, অতিরিক্ত গরমে ফ্যান ও এসির ব্যবহার বৃদ্ধিতে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়। ফলে লোডশেডিং করে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিতে পারেননি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, একদিকে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জীবন অতিষ্ঠ, অন্যদিকে মাস শেষে মিটার রিডাররা মিটারের রিডিং না দেখেই ঘরে বসে আকাশচুম্বী ‘ভৌতিক বিল’ তৈরি করে গ্রাহকদের ওপর আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবস্থাপনা নিয়ে চলছে মুখরোচক সমালোচনা।
কাজিপুর উপজেলার সচেতন নাগরিকদের দাবি, বিদ্যুৎ খাতে বিদ্যমান দুর্নীতি রোধ করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় এই দাবদাহ ও বিদ্যুৎ সংকটে জনদুর্ভোগ আরও চরম এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।#