রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী নাঈম আহমেদ টিটন নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও সন্দেহভাজন হিসেবে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ কয়েকজনের নাম এসেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) নিউ মার্কেট থানায় মামলাটি করেন টিটনের ভাই সাঈদ আক্তার রিপন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিউ মার্কেট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার মো. নাসিম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
মামলার এজাহারে সন্দেহভাজন হিসেবে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল (পিচ্চি হেলাল), বাদল ওরফে কিলার বাদল, শাহজাহান, রনি ওরফে ড্যাগারি রনির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে বছিলায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে টিটনের বিরোধ চলছিল বলে বাদী জানিয়েছেন।
২০০১ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার ২ নম্বরে নাম ছিল টিটনের।
দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর ২০২৪ সালে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার রাত রাত ৮টার দিকে নিউ মার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে টিটনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, টিটন ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে অপরাধজগতে প্রবেশ করেন।
তিনি প্রথমে স্থানীয় অপরাধী চক্রের সদস্য ছিলেন এবং ধীরে ধীরে অপরাধজগতে নিজের পরিচিতি বাড়াতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টিটন তার অপরাধ কার্যক্রম বিস্তৃত করেন। তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন। টিটন অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তার নেতৃত্বে অস্ত্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে।
তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা।