বিশারদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য দ্রুতগতিতে হাঁটছিলাম। আর আমাদের সঙ্গে একজন হাদিস বিদ্রুপকারী মুতাজিলা ছিল। সে ঠাট্টা করে বলল, তোমরা সাবধানে পা ফেলো, যেন ফেরেশতাদের ডানা না ভেঙে যায়। আল্লাহর কসম! আমি আগামীকাল পেরেক লাগানো জুতা পরে ফেরেশতাদের ডানা ভেঙে দেব।
পরদিন সে সেভাবেই জুতা পরে চলল। পরে দেখা গেল সে জমিনে আটকে গেছে এবং পূর্ণভাবে সে অবশ হয়ে গেছে। এমনকি শেষ পর্যন্ত সে সেখানেই পড়ে ছিল। (আর রিহলাহ,খতিবে বাগদাদি ১/৮৫)
২. উপহাসকারীর মলদ্বারে কনুই পর্যন্ত হাত
ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর মুমিনের করণীয় সম্পর্কে নবীজি এক হাদিসে বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে তখন সে যেন অজুর পানিতে হাত ঢোকানোর আগে তা ধুয়ে নেয়; কারণ তোমাদের কেউ জানে না যে ঘুমন্ত অবস্থায় তার হাত কোথায় থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৬২)
এ হাদিস নিয়ে এক ব্যক্তি বিদ্রুপ করে বলল, ‘আমি কি জানি না রাত্রে আমার হাত কোথায় থাকে? আমার হাত তো বিছানাতেই থাকে।
সকালে উঠে সে দেখল যে তার হাত কনুই পর্যন্ত তার মলদ্বারের মধ্যে ঢুকে আছে।’ (বুসতানুল আরেফীন : ১/৫০ )
৩. উপহাসকারীর মাথা গাধার মাথায় রূপান্তর
এক বর্ণনায় আল্লাহর রাসুল (সা.)বলেন, তোমাদের কেউ যখন ইমামের পূর্বে মাথা উঠিয়ে ফেলে, তখন সে কি ভয় করে না যে আল্লাহ তাআলা তার মাথা গাধার মাথায় পরিণত করে দেবেন, তার আকৃতি গাধার আকৃতি করে দেবেন। (বুখারি, হাদিস : ৬৯১)
এ হাদিস নিয়ে এক ব্যক্তি একবার উপহাস করে বসল। পরবর্তী সময়ে দেখা গেল বাস্তবেই তার মাথা গাধার মাথায় রূপান্তরিত হয়ে গেছে। ঘটনার বিবরণটি এমন, জনৈক ব্যক্তি হাদিস শিক্ষার জন্য দামেস্কের প্রসিদ্ধ এক আলেমের কাছে গিয়েছিলেন। তখন তিনি তাকে পর্দার আড়াল থেকে হাদিস শোনালেন, যেন তার চেহারা না দেখা যায়। দীর্ঘ সময় তার সাহচর্যে থাকা এবং হাদিসের প্রতি তার গভীর আসক্তি দেখে উক্ত আলেম তার পর্দা উঠিয়ে দেন। তখন ওই ব্যক্তি তার চেহারা দেখল গাধার ন্যায়। তখন তাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলেন। উত্তরে তিনি তাকে বললেন, ‘হে বৎস! ইমামের আগে যাওয়া থেকে সাবধান থেকো। কেননা আমি এই হাদিস শোনার পর এটাকে দূরবর্তী বিষয় বলে মনে করেছিলাম। ফলে আমি ইমামের আগে চলে যাই। যার কারণে আমার এই অবস্থা হয়েছে। যেমনটি তুমি দেখছ।’ (মিরকাত : ৩/৮৭৯)
৪. মিসওয়াক নিয়ে ঠাট্টার ভয়াবহ পরিণতি
ইমাম নববি ও ইবনে খাল্লেকান (রহ.)-এর বর্ণনা। তাঁরা বলেন, দামেস্কের বুসরা শহরের এক ব্যক্তি ছিল। সে মুমিনদের বিষয়ে মন্দ ধারণা পোষণ করত। তবে তার সন্তান তাদের বিষয়ে সুধারণা পোষণ করত এবং তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখত। তা ছাড়া এই লোকটি ছিল খুবই অহংকারী ও চরম মূর্খ। একবার সে মিসওয়াকের ফজিলত সম্পর্কে জানতে পেরে বা ছেলের হাতে একটি মিসওয়াক দেখে বলল, আল্লাহর কসম, আমি আমার গুহ্যদ্বারে মিসওয়াক করব। অতঃপর সে একটি মিসওয়াক নিয়ে তা করতে লাগল। ফলে সে ৯ মাস ধরে পেট ও গুহ্যদ্বারের তীব্র যন্ত্রণায় ভুগতে থাকল। গর্ভবতীদের মতো তার পেটও বড় হয়ে গেল।
একদিন সে ইদুরের শরীর ও মাছের মাথার ন্যায় বীভৎস এক প্রাণী প্রসব করল, যার বড় বড় চারটি দাঁত ছিল এবং লেজ ছিল এক বিঘত লম্বা। ছিল চারটি আঙুল ও খরগোশের ন্যায় একটি স্ফীত গুহ্যদ্বার। যখন সে এটি প্রসব করল, তখন তার কন্যা বিকটভাবে চিৎকার করল ও প্রাণীটির মাথা ফাটিয়ে দিল। এমতাবস্থায় লোকটি কয়েক দিন বেঁচে ছিল। তারপর একদিন মৃত্যুবরণ করল। মৃত্যুর আগে সে বলত, আহ, এই জানোয়ারটি আমাকে হত্যা করেছে এবং আমার নাড়িভুঁড়ি ছিন্নভিন্ন করেছে। বর্ণিত আছে, অদ্ভুত এই প্রাণীটিকে শহরের লোকজন ও স্থানীয় খতিবরা দেখেছেন। আর এটি ছিল ৬৬৫ হিজরির ঘটনা। (শাজারাতুজ জাহাব : ৭/৫৫১, ফয়জুল কাদির : ১/২৭৮)
৫. সাপের দংশনে মৃত্যু
এক বর্ণনায় আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ওলান বা পালান ফুলানো ছাগী ক্রয় করবে, তিন দিন পর্যন্ত তার জন্য অবকাশ থাকবে। যদি সে ছাগী ফেরত দেয়, তবে সে তার সঙ্গে এক ছা’ খাদ্যবস্তু দেবে। তবে সে উত্তম গম দিতে বাধ্য নয়।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৫২৪)
এই হাদিসের প্রাসঙ্গিক বিষয়ে ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) শায়েখ ইউসুফ হামাদানি থেকে বর্ণনা করেন, আমরা বাগদাদের জামে মসজিদে বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় খোরাসানি জনৈক অনারব ব্যক্তি এসে আমাদের কৃত্রিমভাবে ওলান ফোলানো ছাগী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। আমরা তাকে এর উত্তর দিলাম এবং আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিসটি দলিল হিসেবে উদ্ধৃত করলাম। তখন সে বিখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.)-কে কটাক্ষ করল। তার এ কটাক্ষের পরপর হঠাৎ বাড়ির ছাদ থেকে একটি সাপ পড়ল এবং আমাদের বৈঠকে ঢুকে পড়ল। অতঃপর ওই সাপটি অনারব ব্যক্তিটিকে দংশন করল, অতঃপর সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তি মারা গেল।’ (মাজমাউল ফাতওয়া : ৪/৫৩৯)
মহান আল্লাহ হাদিস নিয়ে বিদ্রুপকারী ও উপহাসকারীদের হিদায়াত দান করুন।