
একসময় নিউজিল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা মিলত ওয়েটাপুঙ্গার। হারাতে হারাতে বিশ্বের সবচেয়ে ভারী এই পতঙ্গের শেষ আশ্রয় হয়ে উঠেছিল একটি দ্বীপ। ১৫ বছরের যত্ন আর সংরক্ষণচেষ্টায় এখন নতুন ১০টি প্রাকৃতিক আবাসে বংশ বাড়াচ্ছে তারা।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে প্রজনন করিয়ে ১১ হাজারের বেশি ওয়েটাপুঙ্গা প্রকৃতিতে ছেড়েছেন সংরক্ষণকর্মীরা। সেখানে জন্ম নিয়েছে তাদের চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মও।
নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় জায়ান্ট ওয়েটার একটি প্রজাতি ওয়েটাপুঙ্গা। স্ত্রী পতঙ্গ প্রায় ১০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। ওজন হতে পারে প্রায় ৭০ গ্রাম—ছোট একটি ইঁদুরের কাছাকাছি।
একসময় নর্থল্যান্ড ও অকল্যান্ডজুড়ে এদের বিচরণ ছিল। পরে আবাসস্থল কমতে থাকে। ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারীদের আনা ইঁদুর ও বিড়ালও এদের শিকার করতে থাকে। বিশ শতকের মাঝামাঝি এদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যায়।
নব্বইয়ের দশকের মধ্যে প্রজাতিটি বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়। বন্য পরিবেশে তখন কেবল লিটল ব্যারিয়ার দ্বীপেই টিকে ছিল তারা।
সংখ্যা এত কম ছিল যে সেখান থেকে সরাসরি অন্যত্র নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই ২০১০ সালে অকল্যান্ড চিড়িয়াখানা ও বাটারফ্লাই ক্রিকের নেতৃত্বে নিয়ন্ত্রিত প্রজনন কর্মসূচি শুরু হয়।
কর্মীরা ছোট পতঙ্গগুলোকে তাজা পাতা, মাছের প্রোটিন ও ঝরা পাতা খাইয়ে বড় করেন। এরপর ৪৫ দফায় উপকূলের অদূরে শিকারি প্রাণীমুক্ত দ্বীপগুলোতে ছেড়ে দেন।
‘নিউজিল্যান্ড জার্নাল অব জুলজি’তে প্রকাশিত ফলাফল বলছে, নতুন আবাসে তারা নিজেরাই বংশবিস্তার করে টিকে থাকছে। এই সাফল্যে দেশটির সংরক্ষণ বিভাগ প্রজাতিটির অবস্থান ‘জাতীয়ভাবে বিপন্ন’ থেকে ‘জাতীয়ভাবে সংখ্যাবর্ধমান’ শ্রেণিতে উন্নীত করেছে।
সাফল্য নথিবদ্ধ করা গবেষক ক্রিস গ্রিন বলেন, ‘ওয়েটাপুঙ্গার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল মনে হচ্ছে।’
তার মতে, অন্য অনেক বিপন্ন প্রজাতির ক্ষেত্রে এমন সুখবর দেওয়া যায় না। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও এভাবে সফল হলে নিউজিল্যান্ডের বিপন্ন প্রাণীদের বড় উপকার হবে।