বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
১৪ মে: আজকের মুদ্রার রেট ১৪ মে ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত? সবাই যদি একটি সিনেমায় কাজ করেন, তা দেশের জন্য বড় অর্জন: শুভ মেসি ম্যাজিকে ৮ গোলের থ্রিলারে জিতল মিয়ামি তরুণদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শেফালীর মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন তার স্বামী পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বিএসইসি’র খুলনায় যমজ কন্যা শিশু হত্যার দায়ে মায়ের যাবজ্জীবন ৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন : অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন : সাদিক রিয়াজ চৌধুরী এমপি

গাইবান্ধায় কুকুরের কামড়ে ফের একজনের মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫

জয়ন্ত সাহা যতন, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : 12:49 pm, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পাগলা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫ জনে। এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন না পাওয়ায় জলাতঙ্কের আতঙ্ক ও একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক, উদ্বেগ। 

বুধবার (১৩ মে) বেলা ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান শারমিন সুলতানা (৫২) নামে এক গৃহবধূ। তিনি উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের কঞ্চিবাড়ী গ্রামের ছালাম মিয়ার স্ত্রী। ঘটনার দিন একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার পর থেকে অসুস্থ ছিলেন তিনি। গত চার দিন ধরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও বাড়িতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। এদিন দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার।

এর আগে গত ৬ মে মারা যান কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের খোকা রামের স্ত্রী নন্দা রানী (৫৫) ও নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুলু মিয়া (৫২)। এর দুদিন পর ৮ মে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ছাপড়হাটী গ্রামের রতনেশ্বর কুমার (৪২)। তিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রী। পরে ১২ মে মঙ্গলবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আফরোজা বেগম (৫০)। তিনি ওই ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ী এলাকার মতিয়ার রহমানের স্ত্রী। এ নিয়ে একই এলাকার ৫জনের মৃত্যু হয়েছে। 

এছাড়া নারী ও শিশুসহ আরও ৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা গভীর উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন।

অক্রান্তরা হলেন- একই এলাকার ফজিতন নেছা, রুমিনা বেগম, নজরুল ইসলাম, হামিদুল ইসলাম, গোলেনুর বেগম, মিতু আক্তার, আতিকুর রহমান, ও বিজয় হোসেন।

চেয়ারম্যান ও স্থানীয়রা জানান, গত ২২ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি, কঞ্চিবাড়ি এবং পাশের ছাপরহাটী ইউনিয়নের মন্ডলেরহাট এলাকায় একটি পাগলা কুকুর হামলা চালায়। কুকুরটি সর্ব প্রথম কামড় দেয় নন্দা রানীর মুখে এরপর একে একে ১৩জনকে কমাড় দেয়। সর্বশেষ কামড় দেয় আতিকুর রহমান নামে এক যুবককে। সেই আতিকুর পরে কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

নিহত সুলতানা শারমিনের ছেলে আল আমিন বলেন, গত চার দিন ধরে আমার মায়ের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। দুধ ছাড়া কিছুই খেতে পারছিল না। কুকুরটি মায়ের কানের নিচে গলায় কামড় দিয়েছিল। পরে হাসপাতালে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল।

নিহত রতনেশ^র কুমারের স্বজনরা জানান, কুকুরে কামড়ানোর পর রতনেশ্বরকে দ্রুত সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে প্রয়োজনীয় র‌্যাবিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন না থাকায় তাকে জেলা সদর হাসপাতালে স্থানন্তর করা হয়। সেখানেও ভ্যাকসিন না থাকায় বিভিন্ন ফার্মেসি ও ক্লিনিক ঘুরে দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা পর উচ্চমূল্যে একটি টিকা সংগ্রহ সম্ভব হলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। আক্রান্ত হওয়ার ১৪ দিন পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রতনেশ^র। 

কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তাজরুল ইসলাম বলেন, কুকুরটি সকলের নাকে, মুখে, কানে ও চোখে আক্রমন করে। এ কারণে অনেকে বেশি অসুস্থ হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ১৩ জন আহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হলো। এতে এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে।

কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার বলেন, আজ বুধবার বেলা ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সুলতানা শারমিন। এনিয়ে আমার ইউনিয়নে ৫জন মারা গেলেন। বিষয়টি এতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেবে সেটি জানা ছিল না।  

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার ইফফাত জাহান তুলি বলেন, নিহত ও আহতদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ খবর নেওয়ার পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কুকুর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব মূলত ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার। আক্রান্ত এলাকায় কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রয়োজন ছিল, তবে আমাদের কাছে সেই ভ্যাকসিন নেই।

এ বিষয়ে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান কথা বলতে রাজি হননি। তিনি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেওয়া এক প্রতিবেদন হাতে দিয়ে বলেন এতে সব লেখা আছে।

প্রতিবেদনে লেখা ছিল, মৃত্যুর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার ডকুমেন্ট পাওয়া যায়নি। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এন্টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিন নেওয়া শুরু করেছিলেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আক্রান্ত ও নিহতের পরিবারের পাশে থেকে প্রশাসন কাজ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com