
সিএনআই নিউজ ডেস্ক :হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ সাধারণ কোন রোগ না। আগে একটি নির্দিষ্ট বয়সের মানুষ এ রোগ থেকে বাঁচার জন্য সাবধানতা অবলম্বন করতো। কিন্তু এখন যে কোন বয়সের মানুষের হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা রয়েছে। বুকে ব্যথা ছাড়াও কিছু লক্ষণ আছে যা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।
লক্ষণ গুলো জেনে নিন-
১। বুকে ব্যথা
হার্ট অ্যাটাকের প্রথম ও প্রধান লক্ষণ হলো বুকে ব্যথা। সাধারণত বুকের মাঝখান থেকে প্রচন্ড চাপ ও ব্যথা অনুভূত হয়। আস্তে আস্তে সেই ব্যথা চোয়ালে অথবা বাম কাঁধ ও বাহুতে ছড়িয়ে পড়ে। এই রকম ব্যথা দেখা দিলে অব্যশই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
২। শ্বাস কষ্ট
শ্বাসকষ্টজনিত কোন সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও যদি শ্বাস কষ্ট দেখা দেয় তবে সতর্ক থাকা উচিত। মূলত হৃদরোগ থেকে ফুসফুসে পানি জমা সহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে ঠান্ডা ছাড়াও শ্বাস কষ্টের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। অল্পতেই দম ফুরিয়ে যাওয়া, মুখ দিয়ে নিঃ শ্বাস নেওয়াও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ।
৩। অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
এটা হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ। বিশেষ করে ডায়াবেটিকস রোগীর ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা ছাড়া অতিরিক্ত ঘাম, বুক ধড়ফড়, হঠাৎ শরীর খারাপ লাগা শুরু হলে অব্যশই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
৪। কাশি
যদি দীর্ঘদিন কাশির সমস্যা থাকে এবং তার সাথে সাদা বা গোলাপি কফ বের হয়, তবে বুঝতে হবে হার্ট ঠিকমত কাজ করছে না। ফলে ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। কফের সাথে নিয়মিত রক্ত বের হলে এটি হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৫। অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
কাজের মধ্যে যদি প্রায়ই হঠাৎ করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, তাহলে বুঝতে হবে হার্টের সমস্যা রয়েছে। এটি যদি কোন দুশ্চিন্তার কারণে না হয়ে থাকে তবে দ্রুত কোন রকম ঝুঁকি না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৬। খুব তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়া
যদি কেউ অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন বা কিছুক্ষণ কাজ করলে বুক ধড়ফড় করে, তবে যত দ্রুত সম্ভব কোন হার্টের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে মহিলাদের হার্টের সমস্যার প্রধান লক্ষণ এটি।
৭। মাথা ব্যথা
হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম লক্ষণ হল প্রচন্ড মাথা ব্যথা। তাই মাথা ব্যাথা হলে তা অবহেলা উচিত না।
৮। বিভিন্ন অঙ্গে ব্যথা ও ফুলে যাওয়া
শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে বিশেষ করে হাত-পায়ের গিঁট ব্যথা ও ফুলে যাওয়া সরাসরি হার্ট অ্যাটাক বা হার্টের সমস্যার সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। তবে দীর্ঘদিন হলে তা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে। শরীরের অভ্যন্তরে পানি চলে আসার করণে শরীরের পানি চলে আসে, যার কারণে হাত-পায়ের গিঁট ফুলে যায়। বিশেষত অনেকক্ষণ কোথাও বসে থাকলে পায়ে পানি চলে আসে। নিয়মিত এটি ঘটলে অব্যশই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
৯। অনিয়মিত পালস রেট
সাধারণত বেশি নার্ভাস থাকলে বা দৌড়াদৌড়ি করলে পালস রেট উঠা নামা করে। তবে এটি যখন কোন কারণ ছাড়াই উঠা নামা করে সেটি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিয়মিতভাবে যদি এই সমস্যা দেখা দেয় তবে অতিসত্ত্বর চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডায়াবেটিকস বা উচ্চ রক্তচাপ রোগীরা উপরোক্ত কোন কারণকে অবহেলা করবেন না। উপরোক্ত যেকোন একটি কারণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পপি /সিএনআই নিউজ /৩৫