
চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনাগুলো রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে নয় ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে ঘটেছে বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
রোববার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে ‘বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও রেড ক্রিসেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
কেন্দ্র দখল করে সিল মারা ও জাল ভোট দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে শনিবার অনুষ্ঠিত চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও হামলায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়।
এর মধ্যে নরসিংদীর রায়পুরা, ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ভোট চলার সময় একজন করে এবং গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভোট গণনার সময় সংঘর্ষে একজন নিহত হন। আহত হন অনেকে।
রাজশাহীর বাগমারার সব ইউনিয়নে একদিন আগে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হলেও সেখানে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু হয়।
ছয় ধাপে এই ভোটের জন্য গত ১১ ফেব্রুয়ারি তফসিল ঘোষণার পর শনিবারের আগ পর্যন্ত ৭০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়।
শনিবারের সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঠিকমত দায়িত্ব পালন করেছে। আপনারা (সাংবাদিক) দেখেছেন, রাজশাহী বাগমারায় যে ঘটনা ঘটেছে। আমরা প্রথমে শুনেছি অনেক মানুষ মারা গেছেন। কিন্তু পরে জানতে পারি দুজন মারা যান। একজন হার্ট হ্যাটাকে, অন্যজন গোলাগুলিতে মারা যান। দুজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে বিরোধের জের ধরে এই সংঘর্ষ হয়।
এসব সংঘর্ষ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে নয়। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকে হয়েছে।’
ইউপি নির্বাচনে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতেও এ ধরনের সংঘর্ষ ঘটে থাকে।’
সাংবাদিকরা মন্ত্রীর কাছে রাজধানীর মিরপুরে সরকার দলীয় দুই এমপির সমর্থকদের সংঘর্ষের বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি পর্যায়ে দুজনের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ হতে পারে। তবে তা প্রকাশ পাওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।’
তিন পুলিশ ও এক আনসার সদস্যসহ ১২ জন আহত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলামুল হক ও সংরক্ষিত আসনের সাংসদ সাবিনা আক্তার তুহিনের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপুরে মিরপুর ১ নম্বরে হয় এই সংঘর্ষ।