
গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের মূল চিন্তা ছিল মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে। অথচ ব্যাট হাতে তাকে নামতেই হলো না। মোহামেডানের তিন স্পিনার গুঁড়িয়ে দিলেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে। এনামুল হক জুনিয়র, নাঈম ইসলাম জুনিয়র ও হাবিবুর রহমান_ তিন স্পিনার মিলে ভাগ করে নিয়েছেন গাজীর ১০ উইকেট। যেখানে দুই জুনিয়রের শিকার চারটি করে উইকেট। তাদের ঘূর্ণি দাপটে ১৪১ রানে গুটিয়ে যায় গাজী। জবাবে ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় মোহামেডান। প্রথম জয় পেয়েছে মাশরাফি মুর্তজার কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। আর বৃষ্টিবিঘি্নত ম্যাচে কলাবাগান একাডেমিকে ২৯ রানে হারিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে গাজী গ্রুপের সূচনাটা কিন্তু একেবারে মন্দ ছিল না। এনামুল হক বিজয় ও শামসুর রহমান শুভ ৩৭ রান তুলে নিয়েছিলেন উদ্বোধনী জুটিতে। তবে স্পিনাররা আক্রমণে আসার পরই সবকিছু পাল্টে যায়। অলক কাপালি ছাড়া গাজী গ্রুপের আর কোনো ব্যাটসম্যান মোহামেডানের স্পিনারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি। সর্বোচ্চ ৪৮ রান আসে অধিনায়ক কাপালির ব্যাট থেকে। ওপেনার শামসুর ২৫ বলে ২৬ রান করেন। আরেক ওপেনার এনামুল ২৩ রান করতে ব্যয় করেন ৫২ বল। চারটি চারের পাশাপাশি ৪৩টি ডট বল খেলেন এনামুল। অথচ আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করার পর তিনি বলেছিলেন, ব্যাটিংয়ের ধরন বদলে ফেলেছেন তিনি। গতকাল সেই আগের এনামুলেরই দেখা মিলল। মোহামেডানের তিন স্পিনারের মধ্যে নাঈম ইসলাম জুনিয়র একাই ধসিয়ে দেন গাজীর টপ অর্ডার। প্রথম চারটি উইকেটই তরুণ এ বাঁহাতি স্পিনারের দখলে। তাই দুই ম্যাচ আগে আম্পায়ারের সন্দেহের তালিকায় পড়া এ স্পিনার ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন। আরেক বাঁহাতি এনামুল জুনিয়র দাপট দেখিয়েছেন শেষ দিকে। কাপালিসহ চার উইকেট তুলে নেন তিনি। মাঝে দুটি উইকেট নেন অফস্পিনার হাবিবুর রহমান। উইকেট কম পেলেও রান দেওয়ায় ভীষণ মিতব্যয়ী ছিলেন তিনি। ছোট টার্গেট তাড়া করতে নেমে মোহামেডানের সূচনাটা কিন্তু ভালো হয়নি। দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার এজাজকে বোল্ড করে দেন পেসার সাজেদুল। তবে সৈকত আলী ও উপল থারাঙ্গা দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাট করে দলকে জয়ের কাছাকাছি পেঁৗছে দেন। নাঈম ও আরিফুল বাকি কাজটা শেষ করেন।
মোহামেডানের কাছে হারের ধাক্কা কাটিয়ে আবার জয়ের ধারায় ফিরেছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। বিকেএসপিতে বৃষ্টিবিঘি্নত ম্যাচে কলাবাগান একাডেমিকে ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে ২৯ রানে হারিয়েছে তারা। তবে ব্যাট করতে নেমে তাদের শুরুটা কিন্তু ভালো ছিল না। সৌম্য, মিঠুন, জুনায়েদসহ টপ অর্ডারের পাঁচ ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরে যান মাত্র ৮১ রানে। তবে ষষ্ঠ উইকেটে আসিফ আহমেদ রাতুল ও সাজ্জাদুল হক ১৩১ রান যোগ করে দলকে ভরাডুবির হাত থেকে উদ্ধার করে লড়াই করার মতো জায়গায় নিয়ে যান। আসিফ ৮২ ও সাজ্জাদুল ৭০ রান করেন। এ দু’জনসহ রূপগঞ্জের চারটি উইকেট দখল করেন তরুণ পেসার আবু জায়েদ রাহি। তবে রূপগঞ্জের ইনিংসের শেষ দিকে নামে বৃষ্টি। প্রায় কুড়ি মিনিট বৃষ্টির জন্য খেলা বন্ধ থাকে। বৃষ্টির জন্য আরেক দফা খেলা বন্ধ থাকায় কলাবাগান একাডেমিকে ২৫ ওভারে ১৭১ রানের টার্গেট দেওয়া হয়। কিন্তু শুরু থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় একবারও জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি একাডেমি। শেষ দিকে বিশ্বনাথ হালদার ও তাপস ঘোষ কেবল পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছেন।
অবশেষে জয়ের দেখা পেয়েছে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। ফতুল্লায় জিম্বাবুইয়ান রিত্রুক্রট হ্যামিলটন মাসাকাদজার সেঞ্চুরিতে সিসিএসের বিপক্ষে ২৭০ রানের বড় টার্গেট ছুড়ে দেয় তারা। জবাব দিতে নেমে ২২১ রানে থামে সিসিএস। তবে মাসাকাদজা ১০৪ বলে ১১৫ রানের দাপুটে ইনিংস খেললেও কলাবাগানের আর কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ওপেনার সাদমানের ৪৭ রান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। না হলে সংগ্রহটা আরও বড় হতে পারত। অবশ্য মাশরাফি ও রাজ্জাকের বোলিং এ রানই যথেষ্ট ছিল। পিনাক-সাইফ ভালো শুরু করলেও অভিজ্ঞতার সঙ্গে পেরে ওঠেননি। শেষ দিকে উত্তম সরকারের হাফ সেঞ্চুরিতে পরাজয়ের ব্যবধান কমায় সিসিএস।