
ক্ষমতায় যাওয়ার উগ্র বাসনায় ব্যর্থ হয়ে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হতাশায় পড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার সম্পর্কে কুৎস্যা রটাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।
মঙ্গলবার (৩ মে) রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে খালেদার দেয়া বক্তব্যের জবাব দিতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় এখন জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তার নেতাকর্মীরা প্রচণ্ড হতাশায় নিমজ্জিত। এখন তিনি হরতাল ডেকে দেশের মানুষকে অবরুদ্ধ করে, শত শত মানুষকে পেট্রোলবোমা মেরে হত্যা করেও ক্ষমতায় যাওয়ার উগ্র বাসনাকে চরিত্রার্থ করতে না পেরে হতাশগ্রস্ত। হতাশা থেকে ও নিজের অপকর্ম ঢাকার জন্য অন্যের চরিত্র হননের নোংরা খেলায় মেতে উঠেছেন বেগম জিয়া। হতাশা থেকেই খালেদা জিয়া সরকার ও সরকারি দল ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের পরিবার সম্পর্কেৎ কুৎস্যা রটনা করছেন।’
খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘নিজের, নিজের পুত্র ও পরিবারের সদস্যদের অপকর্ম ঢাকার জন্য আপনি নোংরা খেলায় মেতে উঠবেন না। আপনার বিষয়ে নোংরা কিন্তু সত্য এমন অনেক বিষয় আমাদের জানা আছে। যদি নোংরামি খেলেন, তবে সেই বিষয়গুলো আমরা জাতির সামনে তুলে ধরতে বাধ্য হবো।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজে একজন আত্মস্বীকৃতিকারী দুর্নীতিবাজ। তিনি নিজে কালো টাকা সাদা করেছিলেন। জিয়া পরিবারের দুর্নীতির কথা সবারই জানা। নিজেদের দুর্নীতি আড়াল করতেই এমন মিথ্যাচার করছে খালেদা জিয়া। তার বড় ছেলে তারেক রহমান হাওয়া ভবনের মাধ্যমে দশ ভাগ কমিশন নিত, এটি প্রমাণিত। তারেক বিদ্যুতের খুঁটির ঠিকাদারি দিয়ে ২১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করছিলেন। তার (খালেদা) ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর দুর্নীতির কারণে ছয় বছরের সাজা হয়েছিল। কোকোর দুর্নীতির ২১ কোটি টাকা সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত এনেছে বাংলাদেশ সরকার।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ডলারের বেশি ব্যাংকে জমা রাখলে জমাকারীর আয়ের উৎস নিয়ে তদন্ত হয়, জবাবদিহি করতে হয়। সেখানে আয় বহির্ভূত ৩শ’ মিলিয়ন ডলার রাখার প্রশ্নই আসে না। আপনি (খালেদা) এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন। আর প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় চ্যালেঞ্জ করেছেন, কেউ তার ৩শ’ মিলিয়ন ডলারের প্রমাণ দিতে পারলে সে অর্থ এতিমের মাঝে বিতরণ করবেন।’
সংবাদ মম্মেলনে দলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক আব্দুস সাত্তার এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।