
‘আসলেন দেখলেন জয় করলেন’— বার্সেলোনায় লিওনেল মেসির গল্পটা এমন হলেও আর্জেন্টিনার মানুষের হৃদয় জয় করা এতটা সহজ ছিল না সর্বকালের অন্যতম সেরা এই মহাতারকার জন্য। মাঝে তো একবার দেশের সমর্থকদের ওপর ক্ষোভ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়ও বলে দিয়েছিলেন এলএম-টেন।
তবে ভাগ্য বিধাতা যখন শেষটা রূপকথার মতো করে লেখেন, তখন মর্তের মানুষের কী সাধ্য সে গল্প পাল্টানোর।
আর্জেন্টিনায় বিদায়ি ম্যাচের আয়োজনই বলে দিচ্ছে অবসর ভেঙে ফিরে এসে দেশের হয়ে কী করেছেন মেসি। জিতেছেন দুইটি কোপা আমেরিকা, একটি ফিনালোসিমা আর সঙ্গে জিতেছেন যেকোনো ফুটবালের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের শিরোপা বিশ্বকাপ।
এত কিছুর পর আর্জেন্টিনা ভক্তদের মনে হয়তো বাজছিল—‘এই পথ যদি না শেষ হয়…।
’ তবে সব পথেরই শেষ আছে। পাহাড় থেকে বয়ে চলা নদীও পথচলা শেষে গিয়ে মেশে সাগরের বুকে। আর রোজারিওর মেসিও আজ আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রেখে মিশে যাবেন মহাকালের গল্পে। যে গল্পে আছে উত্থান-পতন-ব্যর্থতার পর সাফল্যের শিখরে চড়ার গল্প।
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় ভোরে শেষবারের মতো মাঠে নামছেন মেসি। ঐতিহাসিক মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে লাখখানেক দর্শক উপস্থিত থাকবেন মেসির শেষ ম্যাচের সাক্ষী হতে। জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি তো বলেই ফেলেছেন, মেসির বিদায়ি ম্যাচে এমন ৩টি স্টেডিয়ামের টিকিট অনায়াসে বিক্রি করা যেত।
এমন স্বপ্নের সমাপ্তির আগে মেসির জন্মশহর রোজারিওর ন্যাশনাল ফ্ল্যাগ মনুমেন্টে বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়েছেন রোজারিওবাসী। বিশাল এক ১০ নাম্বার জার্সিতে সোনালি রঙে রাঙিয়ে তারা লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ’।
মেসি আসলে আর্জেন্টিনাবাসীর জন্য যা করেছেন আরো বড় করে ‘ধন্যবাদ’ লিখলেও তা কম হয়ে যায়। তবু দেশের ফুটবলের রাজাকে রাজকীয় এক বিদায় দেওয়ার বিষয়ে চেষ্টার কোন কমতি রাখছেন না তারা।
আর দেশের জার্সিতে শেষ বার মাঠে নামার আগে আবেগ ধরে রাখতে বেগ পাচ্ছেন কঠিন মুহূর্তে ঠাণ্ডা মাথায় একের পর এক ডিফেন্ডারকে ধরাশায়ী করা মেসিও। সে আবেগ নিজের মধ্যে চেপে রাখতে না পেরে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়ে দিলেন, ‘বিশেষ কিছু মুহূর্ত, জানি এগুলো খুব মিস করব।’
রেকর্ড ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলারকেও যে ভক্তরা মিস করবেন তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। ইতিমধ্যে ভক্ত থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী সবার মনেই জেঁকে বসেছে বিষণ্ণতার কালো মেঘ।
আর তাই কেউ স্টেডিয়ামে আর কেউ টিভির পর্দায় অশ্রুসিক্ত চোখ নিয়ে আগামীকাল ভোরে দেখতে বসবেন মেসির ‘লাস্ট ড্যান্স’। তাই স্বাভাবিক খেলার চেয়ে হয়তো কাল আবেগই বেশি ভেসে উঠবে মাঠে, আর সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়বে কোটি ভক্তের হৃদয়ে। সবাই তখন একসঙ্গে চিৎকার করে উঠবে—‘গ্রাসিয়াস মেসি’।