বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পাইকগাছায় বন্দোবস্ত জমিতে সাইনবোর্ড; বিপাকে ভূমিহীন কৃষকরা  রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ঘোড়াঘাটে পাটের বাম্পার ফলন, পাটের দামে খুশি চাষিরা বৃষ্টিতে পন্ড ম্যাচ, না খেলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ রুবিও’র সঙ্গে বৈঠকে ইসরাইলের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নে জোর লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর আধুনিক প্রযুক্তি খাতে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেবে সরকার : ড. তিতুমীর ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ : হুমায়ুন কবির সিএসও নেটওয়ার্ক এর অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত 

কুকুর আতংকে দিশেহারা মানুষ

জাকির হোসেন পাটোয়ারী  রাজবাড়ী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : 4:10 pm, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‎বাড়ির সামনে খেলছিল তিন বছরের শিশু সাবরিনা। হঠাৎ দলবেঁধে কয়েকটি বেওয়ারিশ কুকুর তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুকুরের দল শিশুটির মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে মাংস ছিঁড়ে নেয়। চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাকে। শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হলেও এখনো কাটেনি কুকুরের সেই আতঙ্ক।
‎
‎শুধু সাবরিনা নয়, রাজবাড়ীতে প্রতিনিয়ত বেওয়ারিশ কুকুরের কামড় ও হামলার শিকার হচ্ছে মানুষ ও গবাদিপশু। বিশেষ করে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বেশি। দলবদ্ধ কুকুরের আক্রমণের ভয়ে অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে চান না। শিশুদের স্কুলে পাঠাতেও উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। একই সঙ্গে ছাগলসহ বিভিন্ন গৃহপালিত পশুর ওপরও হামলা চালাচ্ছে কুকুরের দল।
‎
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, কুকুর নিধন বন্ধ থাকা, জনবল সংকট ও বরাদ্দ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে কুকুরের বন্ধ্যাত্বকরণ কার্যক্রম। ফলে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি তাদের উপদ্রবও বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।
‎
‎রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, জেলায় বছরে প্রায় ৮ হাজার মানুষ কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি দুই হাজারের বেশি গৃহপালিত পশু কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছে।
‎
‎বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে জলাতঙ্কের টিকা নিয়েছেন ৭৫৬ জন। আর কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত একই ধরনের ঘটনায় টিকা নিয়েছেন ৯৫৩ জন।
‎
‎কালুখালী উপজেলার তোফাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষক মোবারক আলী বলেন, আমার মেয়ের বয়স প্রায় তিন বছর। বাড়ির সামনে খেলাধুলা করছিল। এ সময় একদল কুকুর তাকে আক্রমণ করে। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে মাংস ছিঁড়ে নেয়। চিৎকার শুনে আমার স্ত্রী ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে প্রায় এক মাস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হয়েছে।
‎
‎তিনি আরও বলেন, কুকুরগুলো দলবদ্ধভাবে চলাচল করে। হামলা করে আবার দ্রুত পালিয়ে যায়। আমার স্কুলপড়ুয়া ছেলেকেও একবার কুকুর ধাওয়া করেছিল। এখন সে সহপাঠীদের সঙ্গে স্কুলে যায় এবং কুকুরের ভয়ে হাতে লাঠি রাখে। শুধু শিশুরাই নয়, ছাগলকেও দলবেঁধে আক্রমণ করছে কুকুর।
‎
‎বালিয়াকান্দি সদরের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের এলাকায় কয়েকজনের বাড়ির ছাগলকে কুকুর কামড়েছে। কামড়ানোর পর কুকুরগুলো ছাগলকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। এতে এলাকায় আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। হামলার পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুকুরগুলো পালিয়ে যায়। দু-একদিন দেখা না গেলেও কয়েকদিন পর আবার দলবেঁধে ঘুরতে দেখা যায়। শিশু ও গবাদিপশু নিয়ে আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
‎
‎বেসরকারি চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, সন্তানকে নিয়ে সব সময় উদ্বিগ্ন থাকি। ঘর থেকে রাস্তায় বের হলেই ভয় কাজ করে। প্রতিনিয়ত দলবেঁধে কুকুর ঘুরে বেড়ায়। গৃহপালিত পশু একা পেলেই আক্রমণ করে। ফলে শিশুদের বাইরে পাঠাতেও ভয় হয়।
‎
‎তালপট্টির বাসিন্দা জাকির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, বাড়তি আয়ের আশায় ছাগল পালন করতাম। আমার তিনটি ছাগল ছিল। প্রতিদিনের মতো ছাগলগুলো বাড়ির পাশেই ঘাস খাচ্ছিল। একপর্যায়ে তিনটি কুকুর এসে একটি ছাগলকে কামড়াতে শুরু করে। ভয়ে অন্য দুটি ছাগল দৌড়ে বাড়িতে চলে আসে। আক্রান্ত ছাগলটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। দুই দিন চিকিৎসা দেওয়ার পরও সেটিকে বাঁচাতে পারিনি।
‎
‎জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, একসময় প্রকল্পের মাধ্যমে কুকুরের শরীরে জলাতঙ্ক রোগের টিকা দেওয়া হতো। পৌরসভা থেকেও নিধন ও বন্ধ্যাত্বকরণ কার্যক্রম চালু ছিল। অনেকদিন ধরে এসব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আমাদের নিজস্ব কোনো প্রকল্প বা বাজেট নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হলে জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে আমরা সহযোগিতা করব।
‎
‎রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, কুকুর নিধনে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই নিধনের কোনো সুযোগ নেই। কুকুরের ভ্যাকসিন ও বন্ধ্যাত্বকরণের বিষয়ে উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com