রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারির নামে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে এক প্রসূতি মা ও তার সদ্যজাত সন্তান জীবনসংকটে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মো: রিংকু মিয়া (২৮) বালিয়াকান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, বালিয়াকান্দি উপজেলার দুবলাবাড়ী গ্রামের মো: শাহাদত হোসেনের স্ত্রী আঁখি খাতুন (২১) এর প্রসব বেদনা উঠলে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০ টার দিকে তাকে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ডিউটিরত নার্স কাল্পনা রানী (৫৫) ও অন্য সহযোগীরা প্রসূতিকে নরমাল ডেলিভারির আশ্বস্ত করেন। পরবর্তীতে স্বজনরা সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ছাড়পত্র (রেফার) চাইলে নার্স ও সংশ্লিষ্টরা অপারেশনের প্রয়োজন নেই বলে জোরপূর্বক নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা চালান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ২ টার দিকে ডেলিভারি করানোর সময় প্রসূতি ও নবজাতক উভয়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের ফরিদপুর রেফার করা হলে ফরিদপুরের জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, প্রসবের সময় প্রসূতির বিশেষ অঙ্গ মারাত্মকভাবে ফেটে যাওয়ায় ১৮ থেকে ২০টি সেলাই দিতে হয়েছে এবং নবজাতকের মাথায় মারাত্মক আঘাতের ফলে রক্ত জমাট বেঁধেছে ও বাম হাত আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। বর্তমানে নবজাতকটি সংকটাপন্ন অবস্থায় আইসিইউতে (ICU) চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডক্টর ফারুক হোসেন জানান, “নরমাল ডেলিভারি করানোর সময় কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। এই রোগীটির ক্ষেত্রেও ডেলিভারির সময় কিছুটা টিয়ার (টিস্যু ছিঁড়ে যাওয়া) হয়েছিল, যা আমরা রিপেয়ার (সেলাই) করে দিয়েছি। বাচ্চা জন্ম নেওয়ার পর কান্নাকাটি করছিল না, যাকে ডাক্তারি ভাষায় ‘বার্থ অ্যাস্ফেক্সিয়া’ (Birth Asphyxia) বলা হয়। এ কারণেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স কল্পনা রানীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলো তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করেছে, নার্সের চরম অবহেলা ও অপচিকিৎসার কারণেই আজ মা ও শিশু মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বালিয়াকান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।