সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

সরকারকে ‘মেজরিটির ভূতে’ ধরেছে: গোলাম পরওয়ার

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : 6:43 pm, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারকে মেজরিটির ভূতে ধরেছে। তাই একদলীয় কর্তৃত্ববাদী কায়দায় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন করে নিজেদের পছন্দের লোক দিয়ে রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের আটকের অপরিণামদর্শী পথ থেকে সরকারকে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন?’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই সেমিনারের আয়োজন করে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কখনো কখনো মেজরিটির জোরে অতীতের অনেক সরকার ফ্যাসিবাদী হতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার ইতিহাস ভুলে গিয়ে মেজরিটির জোরে ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে উপেক্ষা করছে এবং গণরায় বাতিল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

সাইবার আইনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ২০ বছরে আইসিটি আইন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, সাইবার সিকিউরিটি আইন, সাইবার প্রোটেকশন অর্ডিন্যান্স এবং সবশেষ সাইবার প্রোটেকশন অ্যাক্টসহ আমরা সাইবার ইস্যুতে পঞ্চম স্তর অতিক্রম করছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা সাইবার প্রোটেকশন অর্ডিন্যান্স-২০২৫ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত স্ট্যান্ডার্ডের দিক থেকে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য হলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে অতিদ্রুত এতে নতুন কিছু ভয়াবহ সংশোধনী এনেছে। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে জনগণের মতামত চাওয়ার এই প্রক্রিয়াকে তিনি ‘মেজরিটির ভূত’ বলে আখ্যায়িত করেন।

তিনি আরও বলেন, এই আইনের ২৬ ও ৩৪ ধারায় মানহানি, গুজব, অসত্য, তল্লাশি ও জব্দের মতো পরিভাষার অসংগতির সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের আটক ও সাজা দেওয়া হবে। অতীতে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী ও মাওলানা নিজামীকে প্রথমে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে পরে যুদ্ধাপরাধের মামলায় ফাঁসির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল স্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমাদের পরিষ্কার কথা—বর্তমান আইনই বহাল থাকুক, প্রস্তাবিত সমস্ত সংশোধনী প্রত্যাহার করুন। তা না হলে দেশের জনগণের ভাষা ও রাজপথের স্লোগান বুঝে সরকারের বোধোদয় হওয়া উচিত। অন্যথায় জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার কারণে সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবিত সাইবার প্রোটেকশন কাউন্সিলে মন্ত্রী ও সরকারি কর্তাব্যক্তিরা থাকলেও সেখানে কোনো সাংবাদিক প্রতিনিধি বা পার্লামেন্টের বিরোধী দলের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। জুলাই সনদের অঙ্গীকার লঙ্ঘন করে একদলীয় কর্তৃত্ববাদী কায়দায় এই কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com