
হংকংয়ের প্রথম ঔপনিবেশিক-পরবর্তী নেতা তুং চি-হুয়ার শেষকৃত্যে রোববার নগরীর সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা জানান। এএফপির সাংবাদিকরা এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন।
চলতি মাসে ৮৯ বছর বয়সে মারা যান তুং। সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকং ১৯৯৭ সালে চীনের কাছে হস্তান্তরের পর বেইজিংয়ের মনোনীত সাবেক এই জাহাজ ব্যবসায়ী নগরটির নেতৃত্বে আসেন। হংকং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
কট্টর রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত তুং আট বছর দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাপক বিক্ষোভের পর ২০০৫ সালে তিনি পদত্যাগ করেন। তার মেয়াদজুড়ে নানা সংকট দেখা দেয়।
চীনের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো তুংয়ের কফিন রোববার শববাহী গাড়িতে করে হংকং ফিউনারেল হোম থেকে একটি দাহস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্মরণসভা কক্ষে তুংয়ের একটি প্রতিকৃতি রাখা হয়। ছবিতে তাকে হাস্যোজ্জ্বল ও তার স্বভাবসুলভ ছোট করে ছাঁটা চুলে দেখা যায়। চারপাশে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক সাদা অর্কিড রাখা হয়।
স্মরণসভা কক্ষের বাইরের রাস্তাজুড়ে সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের পাঠানো শত শত পুষ্পস্তবক রাখা হয়।
তুংয়ের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুলের শোকবার্তায় বলা হয়, ‘গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে আমরা তাকে স্মরণ করছি।’
শেষকৃত্য আয়োজক কমিটি তাকে ‘খ্যাতিমান দেশপ্রেমিক’ এবং ‘চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
৮৯ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সংস্কারকর্মী চেউং কোয়ক-লিক বলেন, সাবেক এই নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি বাসে করে এক ঘণ্টার পথ পেরিয়ে এসেছেন।
তুংয়ের দায়িত্ব পালনের সময় এশীয় আর্থিক সংকট ও প্রাণঘাতী সার্স মহামারি মোকাবিলা করতে হয়েছিল। চেউং বলেন, ‘এটি কোনোভাবেই সহজ ছিল না।’
তুংয়ের নেতৃত্বের সময় রেকর্ড বেকারত্ব এবং ১৯৯৭ সালের বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবও ঘটে।
নগরীর বাসিন্দা কিকি হো বলেন, শ্রদ্ধা জানানোর পরও তিনি ‘দুঃখ ভারাক্রান্ত ও আবেগাপ্লুত’ অনুভব করছেন।
৬৮ বছর বয়সী এই নারী বলেন, ‘তিনি যে সময় ও পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তাতে পরিস্থিতি তার অনুকূলে ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি একজন ভদ্রলোক ছিলেন। অভিজ্ঞ একজন মানুষ ছিলেন। হংকংয়ের জন্য সত্যিকার অর্থেই কিছু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গন হয়তো তার জন্য খুব বেশি জটিল ছিল।’
এর আগে ব্রিটিশ ও মার্কিন কনস্যুলেট তুংয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রশংসা করে।
কয়েক দশক ধরে তিনি বেইজিং, হংকং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করেছেন।
চীনে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ম্যাক্স বাউকাস তুংকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘জীবনের শেষ কয়েক দশকে তিনি এই বিশ্বাসে নিবেদিত ছিলেন যে, আমাদের দুই দেশের পারস্পরিক শান্তি নিশ্চিত ও বজায় রাখা প্রয়োজন।’
বাউকাস আরও বলেন, ‘এটি অর্জনের সবচেয়ে ভালো উপায় হল জনগণের মধ্যে কূটনীতিÑএমনটাই তিনি বিশ্বাস করতেন।’
তুং তার স্ত্রী বেটি চিউ, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।