রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আবাদি জমির উন্মুক্ত অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নবিরন নেছা (৫৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু এবং লাশ গুমের চেষ্টার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মৃধা (৩৫) কে ফরিদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। গ্রেপ্তারকৃত রফিকুল গোয়ালন্দ ঘাট থানার আইনুদ্দিন প্রামানিক পাড়ার মৃত জলিল মৃধার ছেলে।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১০ অধিনায়কের পক্ষে সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা, এডি শনিবার বিকেলে বলেন, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাট থানার চর দৌলতদিয়া এলাকায় বসবাসকারী নবিরন নেছা (৫৫) দরিদ্রতার কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল থাকা সত্ত্বেও নিজেই বর্গা জমিতে কৃষিকাজ করতেন। বৃদ্ধা নারী গত ২ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টায় বর্গা জমিতে কৃষিকাজ করতে যায়। সন্ধ্যার পর বাড়ি না ফেরায় তার মেয়ে বাড়ির আশপাশ এবং সম্ভাব্য জায়গায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রাত ৯টার দিকে পাশের আখক্ষেতে থাকা প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম মৃধার জমির পানিতে মেয়ে তার মায়ের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। আশপাশের লোকজনের সহায়তায় গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, হৃদরোগজনিত কারণে পানিতে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলের আশপাশে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মৃধার জমির আখক্ষেতের চারপাশে অবৈধভাবে জিআই তার দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করে রাখে। ওই তারের প্রবাহিত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে মারা যায় এবং এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্তরা লাশ ধানক্ষেত থেকে টেনে আখক্ষেতে রাখে এবং মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে আখক্ষেতের প¦ার্শে গর্ত খনন করে।
এ ঘটনায় মেয়ে বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করে। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্তদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে র্যাব-১০, ঢাকা বরাবর অধিযাচন পত্র প্রেরণ করেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং প্রকৃত ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালী থানার বেপারী পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২ টায় প্রধান অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মৃধা (৩৫) কে অধিযাচনপত্র পাওয়ার ৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
উল্লেখ্য, মৃত নবীরন বেগম গোয়ালন্দ উপজেলার চর দৌলতদিয়া ইউনিয়নের আইনদ্দিন মৃধা পাড়ার রহিম শেখের স্ত্রী। ওই নারী গত বুধবার (২সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩ টার দিকে তার ধান ক্ষেতে যায়। তার ধান ক্ষেতের সাথেই ছিলো আঃ রফিকের আখ ক্ষেত, যা ছিলো চুরি এড়াতে বিদ্যুতের লাইন দিয়ে পরিবেষ্টিত। ওই নারী সেই তারের সংস্পর্শে আসলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ঘটনাটি আখ ক্ষেতের মালিক আঃ রফিক দেখে নারীর লাশটি সেই ক্ষেতের আইলে গর্ত করে পুঁতে রাখে এবং আখের পাতা দিয়ে ওই স্থান ঢেকে রাখে। পরবর্তীতে বাড়িতে ফিরতে দেরি হলে নারীর পরিবার তাকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা সেই নারীর হাত, পা বাঁধা অবস্থায় পুঁতে রাখা লাশ খুঁজে পায় তার পরিবার। এরপর থেকে আঃ রফিক নেতাদের ধরাধরি শুরু করেন। একপর্যায়ে সাবেক ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আবু তালেব বিষয়টি আইনী ঝামেলা এড়াতে ৪ লক্ষ টাকা নিয়ে দেন সেই নারীর পরিবারকে।